ঢাকা   রোববার ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২

উদ্বোধনের আগেই হোঁচট খেল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক

উদ্বোধনের আগেই হোঁচট খেল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক

 রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে রোববার সকালে অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে কোনো এক রহস্যময় কারণে অনুষ্ঠান শুরুর ঠিক আগের দিন বিকেলে তা স্থগিত করে দেওয়া হয়। সরকারি উদ্যোগে গঠিত এই নতুন ব্যাংকটির যাত্রা হঠাৎ থমকে যাওয়ায় এখন সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জনের ডালপালা মেলছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মূলত নিরাপত্তাজনিত চরম ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংকটাপন্ন পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত এই ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা নিয়ে আগে থেকেই চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা ও বিক্ষুব্ধ আমানতকারীদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানস্থল ঘেরাও করার আগাম ঘোষণা আসায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে।


উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এবং অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের মধ্যে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা প্রধান অতিথি এবং গভর্নর ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়ার সভাপতিত্বে এই উদ্বোধনী পর্বটি হওয়ার সব আয়োজন চূড়ান্ত ছিল।

বর্তমানে ব্যাংকটির শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহলে নানা সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত এক কর্মকর্তাকে এমডি পদের জন্য সুপারিশ করার বিষয়টি নিয়ে খোদ ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক বির্তকের সৃষ্টি হয়েছে। আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) এই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে ব্যাংকটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল।

উল্লেখ্য, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংককে একত্রিত করেই ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছে। এই বড় ধরণের একীভূতকরণের প্রভাব আগামী অর্থবছরগুলোতে ব্যাংকিং খাতে কেমন হবে, তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।