Runner Automobiles
Sea Pearl Beach Resort & SPA Ltd
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

হু হু করে বাড়লো ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের শেয়ারের দাম


১৫ মার্চ ২০২০ রবিবার, ০৩:৩৮  পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক


হু হু করে বাড়লো ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের শেয়ারের দাম

 

ভয়াবহ পতনের কবলে পড়ে রোববার একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামে বড় পতন হলেও সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

পতনের বাজারেও কোম্পানিটির শেয়ার যেন ‘মহামূল্যবান’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে যাদের কাছে কোম্পানির শেয়ার আছে তারা কেউ বিক্রি করতে চাচ্ছেন না। ফলে হু হু করে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম বেড়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে গেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এদিন কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনের শুরুর দাম ছিল ৪ টাকা ১০ পয়সা দরে। এর থেকে ৫০ পয়সা কমিয়ে ৩ টাকা ৬০ পয়সা দরে প্রথমে ৫ লাখ ৮৭ হাজার শেয়ার ক্রয়ের আবেদন পড়ে। তবে কেউ এই দামে শেয়ার বিক্রি করতে রাজি হননি।

এরপর ৩ টাকা ৭০ পয়সা করে ৮ লাখ ৬১ হাজার শেয়ার ক্রয়ের আবেদন আসে। এ দামেও কেউ শেয়ার বিক্রি করতে রাজি হননি। এরপর কয়েক দফা দাম বেড়ে ৪ টাকা ৪০ পয়সা দামে ৩ লাখ ৪০ হাজার ২৩২টি শেয়ার ক্রয়ের আবেদন পড়ে। এই দামেও কোনো বিনিয়োগকারী তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করতে রাজি হননি। ফলে কোম্পানিটির শেয়ারের বিক্রেতা শূন্যই থেকে গেছে।

২২১ কোটি ৮১ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ২২ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ২৪৭টি। এর মধ্যে ৪১ দশমিক ৫৪ শতাংশ আছে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে ৩১ দশমিক ৬১ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আছে। আর ২৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ বিদেশিদের কাছে আছে।

মন্দাবাজারে হঠাৎ করে শেয়ারের এমন দাম বাড়লেও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিদর্শনে উঠে এসেছে, প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে ঋণের নামে এক হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা বের করে নেন। তিনি এনআরবি গ্লোবাল ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক এমডি।


এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি থাকা অবস্থায় ২০১৫ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের শেয়ার কিনে কর্তৃত্ব নেন। এরপর এসব ঋণ নেন। ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের পাশাপাশি পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানির (বিআইএফসি) নিয়ন্ত্রণ নেন তিনি। এসব পরিবর্তনে অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত জানুয়ারিতে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাত আমানতকারী টাকা ফেরত চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করেন। আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেন। গত ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন তিনি।

তবে সমস্যাগ্রস্ত হয়ে পড়ায় সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে গত ১ মার্চ আদালতের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন ইব্রাহিম খালেদ। প্রতিষ্ঠানটিকে ভালো অবস্থানে নেয়ার কোনো সম্ভাবনা না থাকায় তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন।

পদত্যাগের কারণ হিসেবে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ গণমাধ্যমকে জানান, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের যে ঝামেলা, তাতে আমি স্বাস্থ্যগতভাবে বহন করার মতো অবস্থায় নেই। যে কারণে পদত্যাগ করেছি। এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির কাছে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছিলাম।

‘সেখানে বলেছি, ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ভালো চলছিল। তখন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহবুব জামিল এর চেয়ারম্যান ছিলেন। পি কে হালদার ও তার গ্রুপ আচমকা তাকে সরিয়ে দিয়ে পর্ষদ পুনর্গঠন এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে কোণঠাসা করে অনেক টাকা বের করে নিয়েছে।’

তিনি বলেন, পি কে হালদার অনেক টাকা পাচার করে নিজেও বাইরে চলে গেছেন বলে শুনেছি। যে প্রতিষ্ঠানের টাকা পাচার হয়ে গেছে, তা উদ্ধার করা তো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এটা দেখবে দুদক। আর প্রতিষ্ঠান রক্ষায় কাজ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ইব্রাহিম খালেদ আরও বলেন, মাহবুব জামিলের মতো নামকরা লোককে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে সরিয়ে পি কে হালদাররা দলেবলে ঢুকল এবং সব পরিবর্তন করে ফেলল। বাংলাদেশ ব্যাংকের নজর এড়িয়ে এসব সম্ভব হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে জনগণের আমানত রক্ষা করার দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের। এ ক্ষেত্রে তাদের দুর্বলতা দেখা গেছে।

এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ঘটনার চার বছর পরও বাংলাদেশ ব্যাংক কেন কোনো ব্যবস্থা নিল না, সেটা দেখতে হবে। তিনি বলেন, নাগরিক হিসেবে আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমি দায়িত্ব নিয়েছিলাম। তবে এই প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করা সম্ভব নয়- যোগ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই ডেপুটি গভর্নর।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: