Sahre Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

শেয়ারবাজারে দরপতনের ভয়াবহ তথ্য ফাঁস!


০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সোমবার, ১১:০৯  এএম

শেয়ার বিজনেস24.কম


শেয়ারবাজারে দরপতনের ভয়াবহ তথ্য ফাঁস!

অতি তেজিভাব ঠেকাতে গিয়ে শেয়ারবাজারে পতন ডেকে এনেছে খোদ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক। গত কয়েক দিনের মতো সপ্তাহের শুরুতে রোববার বড় দরপতনের পর এমন অভিযোগ তুলেছেন বিনিয়োগকারী ও বাজার-সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, গত জানুয়ারির হঠাৎ উত্থানে লাগাম পরাতে গিয়ে অদূরদর্শী পদক্ষেপের ফলে দরপতন শুরু হয়েছে। এতে জানুয়ারিতে দৈনিক লেনদেনে সার্বিক শেয়ারদর, সূচক ও কেনাবেচা যত দ্রুত বেড়েছিল, এখন পতন হচ্ছে তার থেকে দ্বিগুণ গতিতে। একদিনে দুই হাজার কোটি টাকার লেনদেন এখন এক-তৃতীয়াংশে নেমেছে।

রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৬৯ শতাংশ ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক শেয়ারবাজার সিএসইতে ৭২ শতাংশের বেশি শেয়ারের দরপতন হয়। এতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের পতন হয়েছে ৪২ পয়েন্ট বা পৌনে ১ শতাংশ। লেনদেন নেমেছে ৬৭৮ কোটি টাকারও নিচে। গত ২৭ নভেম্বরের পর এত কম লেনদেন ডিএসইতে হয়নি।

জানা গেছে, রোববার লেনদেনের শেষ ঘণ্টায় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ সংস্থা আইসিবি শেয়ার কিনে দরপতন রুখতে চেষ্টা না করলে সূচকগুলোর পতন অন্তত ২ শতাংশ হতো। লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, রোববার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে ডিএসইএক্স ৯৯ পয়েন্ট হারিয়ে ৫২৬৬ পয়েন্টে নেমেছিল। দিনের শুরুর সর্বোচ্চ অবস্থান ৫৩৭৭ পয়েন্টে তুলনায় ওই পতনের হার ছিল ২ দশমিক ১০ শতাংশ।

বাজার-সংশ্লিষ্টদের মতে, ভীতি থেকে শেয়ার বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত দুই সপ্তাহ ধরে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ শেয়ারে এমন দরপতন হচ্ছে। এ সময়ে ৩২৯ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৮৬টির দর কমেছে। এর মধ্যে ১২৭টির দরপতন হয়েছে ১০ থেকে ২৭ শতাংশ পর্যন্ত। ডিএসইএক্সের পতন হয়েছে ৩৮৫ পয়েন্ট বা পৌনে ৭ শতাংশ। এ ছাড়া গত ২৩ জানুয়ারি ডিএসইতে যেখানে ৭০ কোটি ৩৪ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়েছিল, গতকাল তা ৬৯ শতাংশ কমে ২১ কোটি ৫২ লাখে নেমেছে। বিনিয়োগকারীরা হাত গুটিয়ে নেওয়াতেই এ অবস্থা বলে মনে করেন অনেকেই।

দৈনিক সমকালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জানুয়ারির হঠাৎ উত্থান রুখতে বিএসইসি শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংককে ফোন করে কেনাবেচায় লাগাম টানতে পরামর্শ দেয়। ওই সময় আইসিবি একদিনে দেড়শ` কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে। এ ছাড়া ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো মার্জিন ঋণ প্রদানে বিদ্যমান নিয়ম পরিপালন করছে কি-না, তাও নজরদারি শুরু করে। পাশাপাশি মার্জিন ঋণ সংক্রান্ত অনিয়মের ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়। এতে গত ২৪ জানুয়ারি অধিকাংশ শেয়ারের দর কমে। সূচকের পতন শুরু হয় ২৫ জানুয়ারি। এরপর গত ২৯ জানুয়ারি মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগে নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা দেন। এতে দরপতনে নতুন মাত্রা যোগ হয়। তবে গত কয়েকদিন ধরে পতন রুখতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিশেষত আইসিবি শেয়ার কিনেও দরপতন রুখতে পারছে না।

কৃত্রিমভাবে উত্থান থামানোর চেষ্টা থেকেই এ দরপতন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান। বাজার-বিশ্লেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ মুসা এ প্রসঙ্গে বলেন, কৃত্রিমভাবে বাজারে গতি আনা এবং পতন ডাকা ঠিক নয়। জোর করে বাজার রোখার চেষ্টা করতে গেলে পরিণতি যে ভালো হয় না। জোর করতে গেলেই বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারিয়ে ফেলেন। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি তারই প্রমাণ।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: