Runner Automobiles
Sea Pearl Beach Resort & SPA Ltd
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

পুঁজিবাজারে সুখবর দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক


১৫ অক্টোবর ২০১৯ মঙ্গলবার, ০১:৪৮  পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক


পুঁজিবাজারে সুখবর দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে রেপোর (পুনঃক্রয় চুক্তি) মাধ্যমে অর্থ সরবারহ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার বেসরকারি সিটি ব্যাংককে ৫০ কোটি টাকার তহবিল ছাড় দিয়েছে। ব্যাংকটি নিজস্ব পোর্টফোলিওতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ অর্থ পুঁজিবাজারে আসছে এটা ভালো খবর। ফলে বাজারে বিনিয়োগ বাড়বে, তারল্য সংকট কমবে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আস্থা ফিরবে। তবে ১৫টির মতো ব্যাংক রেপোর অর্থ নেয়ার সক্ষমতা থাকলেও মাত্র একটি ব্যাংক এ অর্থ নিচ্ছে। এটা খুবই সামান্য। সবগুলো ব্যাংক এ অর্থ নিয়ে বিনিয়োগ করলে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে প্রত্যাশা করেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

তহবিলের অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানান, গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য রেপোর আওতায় তহবিল চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করে বেসরকারি সিটি ব্যাংক। যাচাই-বাছাই করে ৫০ কোটি টাকার তহবিল অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর আজ (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তহবিল অর্থ ছাড় করা হয়েছে। ব্যাংকটি আগামীকাল মঙ্গলবার থেকেই তহবিলের অর্থ নিজস্ব পোর্টফোলিওতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ব্রোকারেজ হাউসের মালিকদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী বলেন, পুঁজিবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেপোর অর্থ আসছে এটা ভালো খবর। এটা বিনিয়োগকারীদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। এটাকে আমরা স্বগত জানাই। ১৫টির মতো ব্যাংকের রেপোর অর্থ নেয়ার সক্ষমতা থাকলেও মাত্র একটি ব্যাংক এ অর্থ নিচ্ছে।

পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য মুদ্রাবাজার সংস্কার জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংকখাতে এখন অর্থ সংকট চলছে, যার প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়েছে। এটি দূর করতে হলে মুদ্রাবাজার সংস্কার করতে হবে। গত ১০-১২ বছরে মুদ্রাবাজারে কোনো সংস্কার হয়নি। কোনো সমস্যা হলেই সার্কুলার জারি করছে। বছরের পর বছর সার্কুলার দিয়ে চলেছে। এটা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তাই মুদ্রাবাজার সংস্কার জরুরি। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর প্রতি আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে হবে। কারণ আমানত না বাড়াতে পারলে ব্যাংকের তারল্য সংকট দূর হবে না বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপোর আওতায় প্রাপ্ত তহবিল ব্যাংকটি নিজে সরাসরি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পাশাপাশি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগের জন্য ঋণ দেবে। এজন্য ব্যাংক ও তাদের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান সিটি ব্রোকারেজের নামে দুটি পৃথক বিও অ্যাকাউন্টও খুলেছে।


এর আগে পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট কাটাতে রেপোর আওতায় ব্যাংকগুলোকে তহবিল সুবিধা দিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সার্কুলারে বলা হয়, সার্কুলার জারির তারিখ থেকে আগামী ৩ (তিন) মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়।

সার্কুলার অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো সরকারকে দেওয়া ঋণের বিপরীতে ধারণ করা ট্রেজারি বিল ও বন্ড বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়ে রেপোর মাধ্যমে তহবিল নিতে পারবে। ওই তহবিল ব্যাংক নিজে বিনিয়োগের পাশাপাশি তার সহযোগী (সাবসিডিয়ারি) কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে ঋণ দিতে পারবে।

এই তারল্য যাতে পুঁজিবাজারেই বিনিয়োগ হয়, সেজন্য ব্যাংক ও সাবসিডিয়ারিকে পৃথক বিও হিসেব খুলতে হবে। ব্যাংকসমূহের অতিরিক্ত তারল্য হতে ট্রেজারি বন্ড বা বিল রেপোর মাধ্যমে এই তারল্য সুবিধা গ্রহণ করতে হবে। ট্রেজারি বন্ড বা বিলের রেপো মূল্যের ৫ শতাংশ মার্জিন রেখে তারল্য সুবিধা নিতে পারবে ব্যাংক। এর অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তার অতিরিক্ত ট্রেজারি বন্ড ও বিলের বাজার মূল্যের ৯৫ শতাংশ অর্থ রেপোর আওতায় নিতে পারবে। আর এ তহবিলের অর্থ ব্যাংকগুলো ২৮ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত আগস্ট শেষে ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকা। এর প্রায় ৮৫ শতাংশই ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ হিসেবে আছে। এই ট্রেজারি বিল ও বন্ডে রাখা অর্থের একটা অংশ বিকল্পভাবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে এ সার্কুলার জারি করা হয়।

জানা গেছে, ব্যাংকগুলো ১০০ টাকা আমানত নিলে সাড়ে ৮১ টাকা বিনিয়োগ করতে পারে। বাকি সাড়ে ১৮ টাকা বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সংরক্ষণ করতে হয়। মূলত আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থেই এমন বিধান রয়েছে ব্যাংকিং খাতে। সাড়ে ১৮ টাকার মধ্যে সাড়ে ৫ টাকা নগদে সংরক্ষণ করতে হয়। যাকে ব্যাংকিং ভাষায় সিআরআর বা নগদ জমার হার বলে। বাকি ১৩ টাকা সম্পদ দিয়ে সংরক্ষণ করতে হয়। আর এটাকে ব্যাংকিং ভাষায় এসএলআর বলে। এ সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ট্রেজারি বিল ও বন্ড।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: