ঢাকা   রোববার ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২

‘দুষ্টচক্রের ত্রিভুজে আটকে ছিল বাংলাদেশ’ – হোসেন জিল্লুর রহমান

অর্থ ও বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৯:৫৪, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

‘দুষ্টচক্রের ত্রিভুজে আটকে ছিল বাংলাদেশ’ – হোসেন জিল্লুর রহমান

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, ২০১৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত বাংলাদেশ একটি ‘দুষ্টচক্রের ত্রিভুজে’ আটকে ছিল। এই সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থ, নীতি প্রণয়নে সমতা বজায় রাখতে ব্যর্থ এবং শাসনব্যবস্থা দুর্নীতি ও ক্ষমতাশালী ধনী গোষ্ঠীর প্রভাবে প্রভাবিত ছিল। তিনি জানান, ২০২২ সালের পর একের পর এক সংকট এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, ফলে দেশে কাঠামোগত দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

রোববার রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিনটি মূল পদক্ষেপ প্রয়োজন: গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও প্রকৃত জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, মানুষকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে নতুন সামাজিক চুক্তি গড়ে তোলা

বিয়ন্ড জবলেস গ্রোথ: টুওয়ার্ডস অ্যান এমপ্লয়মেন্ট-সেন্টারড পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও জার্মান গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ফ্রেডরিক এবার্ট স্টিফটাং (এফইএস)। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া, বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহ-উপাচার্য সায়মা হক

পিপিআরসি নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ‘সহনশীল রাষ্ট্র’ হিসেবে পরিচিত হলেও এখন ‘আনন্দহীন রেজিলিয়েন্সের ফাঁদে’ আটকে গেছে। অর্থাৎ সহনশীলতা থাকা সত্ত্বেও সংকট মোকাবিলার চক্র থেকে বের হতে পারছি না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য সায়মা হক বিদিশা বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন নেই এবং কৃষক পরিবারের সন্তানরা কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছে না। তিনি বলেন, নতুন সুযোগ সৃষ্টি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন বৃদ্ধি, ফ্রিল্যান্সিং ও অনানুষ্ঠানিক খাতের জন্য নীতি ও প্রণোদনা কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আনতে পারে।

গবেষণা সংস্থা র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশে যে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে তার সঙ্গে চাকরি তৈরির সরাসরি কোনো সংযোগ নেই। গত ১০ বছরে উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ শতাংশের বেশি, কিন্তু কর্মসংস্থান কমেছে প্রায় ১৫ লাখ। এখন সময় এসেছে চাকরি সৃষ্টিকেন্দ্রিক নীতি সাজানোর।

প্যানেল আলোচনায় বিডিজবসের সিইও এ কে এম ফাহিম মাসরুর বলেন, প্রতিবছর প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার গ্র্যাজুয়েট শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, এর ৭০ শতাংশই ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধিভুক্ত কলেজ থেকে আসে। তিনি বলেন, এই কলেজগুলো বেকার তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী শ্রম রপ্তানিতে দক্ষতার অসামঞ্জস্যও তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক ও শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন প্রযুক্তি ও যন্ত্রের কারণে কর্মসংস্থানের হার কমছে। শ্রমিকদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও বিকল্প কর্মসংস্থান প্রয়োজন, তবে মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রাসঙ্গিক অধিদপ্তর নেই, যা নীতি বাস্তবায়নের বড় বাধা।