Runner Automobiles
Sea Pearl Beach Resort & SPA Ltd
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

নানা উদ্যোগেও প্রভাব নেই পুঁজিবাজারে


১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার, ০১:৪৩  পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক


নানা উদ্যোগেও প্রভাব নেই পুঁজিবাজারে

কিছুদিন ধরে দরপতন চলছে দেশের শেয়ারবাজারে। ব্যাপক কারসাজির পর ২০১০ সালের ডিসেম্বরে বাজারে ধস নেমেছিল। গত প্রায় নয় বছরে দরপতন রুখতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার প্রভাব বাজারে পড়ছে না। বাজার পরিচালনায় সুশাসনের ঘাটতিসহ নানা কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় চিড় ধরেছে। বাজার-সংশ্নিষ্টদের অভিমত, এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে ভালো কোম্পানির শেয়ারও ছেড়ে দিতে চাইছেন বিনিয়োগকারীরা। ওই শেয়ার কেনার জন্য যথেষ্ট ক্রেতা মিলছে না। ফলে দর হারাচ্ছে প্রায় সব শেয়ার। এতে সূচকের পতনও ত্বরান্বিত হচ্ছে।

চলতি দরপতন তিন সপ্তাহ গড়িয়েছে। এ সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ৮৩ শতাংশের বেশি শেয়ার দর হারিয়েছে। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৩০৩ পয়েন্ট হারিয়ে ৪৯৩৩ পয়েন্টে নেমেছে। বর্তমানে ডিএসইএক্স সূচকটি গণনা করা হয় ২৮২ কোম্পানির শেয়ারদরের ওঠানামার ভিত্তিতে। দেখা গেছে, গত তিন সপ্তাহে ২৮২ কোম্পানির মধ্যে ৫০টির দরপতনেই সূচকটি হারিয়েছে ২৩২ পয়েন্ট বা ৭৭ শতাংশ। আর সূচকের পতনে একক কোম্পানি হিসেবে যে দশ কোম্পানির ভূমিকা বেশি সেগুলোর কারণে ডিএসইএক্স হারিয়েছে প্রায় ১০৯ পয়েন্ট বা প্রায় ৩৬ শতাংশ।

ডিএসইর কর্মকর্তারা জানান, সূচক গণনা করা হয় কোনো কোম্পানির ফ্রি-ফ্লোট বা বাজারে সচরাচর লেনদেনযোগ্য শেয়ারের বাজার মূলধন ও বাজারদর ওঠানামার ভিত্তিতে। ভালো মানের শেয়ারগুলোর বাজারদরও বেশি হওয়ায় এগুলোর বাজার মূলধনও অন্য কোম্পানির তুলনায় বেশি। মূলধন বাঁচাতে বিনিয়োগকারীরা যখন বড় কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করছেন, তখন কম-বেশি এসব শেয়ারের দরও কমছে। বাজার মূলধনে কোম্পানিগুলোর অংশ বেশি হওয়ায় তা সূচকের পতন ত্বরান্বিত হচ্ছে। সূচক দেখে অধিকাংশ বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করায় পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে।

দেখা গেছে, গত তিন সপ্তাহের সূচক পতনে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন। এ কোম্পানির শেয়ারের দরপতনে গত তিন সপ্তাহে সব মিলিয়ে ডিএসইএক্স সূচকটি হারিয়েছে ১৮ পয়েন্ট। ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণার পর গত ৯ সেপ্টেম্বর শেয়ারটির দর সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সূচক গণনা করা হয়েছে। বাজার-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত আগস্টের শুরুতে কোম্পানিটির মালিকপক্ষ এক কোটি শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেয়। এই শেয়ার একটি বিদেশি কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হবে। কিন্তু গুঞ্জন আছে, শেষ পর্যন্ত এই শেয়ার কেনাবেচা নাও হতে পারে। এ কারণে বেশ আকর্ষণীয় লভ্যাংশ ঘোষণার (১৩০ শতাংশ নগদসহ মোট ১৪০ শতাংশ) পরও শেয়ারটির দরপতন হচ্ছে। সর্বশেষ তিন সপ্তাহে প্রায় ৯০ টাকা দর হারিয়েছে। অবশ্য বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণার কারণে এর মধ্যে ৩৮ টাকা দর সংশোধন হয়েছে।

সূচকের পতনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারণ বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি)। গত সপ্তাহে শেয়ারটির দর ৮৫ টাকা কমার কারণে সূচক হারিয়েছে প্রায় ১৮ পয়েন্ট।

একক কোম্পানি হিসেবে সূচকের পতনে তৃতীয় সর্বোচ্চ কারণ স্কয়ার ফার্মার দরপতন। কোম্পানিটির শেয়ারের দরপতনের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তবে এ কোম্পানি থেকেও ক্রমান্বয়ে বিদেশি বিনিয়োগ কমছে। দেখা গেছে, গত তিন সপ্তাহে শেয়ারটির দর প্রায় আট টাকা কমেছে। এ কারণে সূচক হারিয়েছে অন্তত ১৬ পয়েন্ট।

সূচক পতনে চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা ব্র্যাক, দ্য সিটি এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ারের দরপতনে ডিএসইএক্স সূচক হারিয়েছে যথাক্রমে ১০ দশমিক ৬০, ১০ দশমিক ২১ এবং ৯ দশমিক ২০ পয়েন্ট। জুনকেন্দ্রিক হিসাব বছর শেষ হওয়া কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণা শুরু হওয়ায় এ সময় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগে আগ্রহ কম থাকে বিনিয়োগকারীদের। এ কারণে প্রায় প্রতি বছরই এ সময় দর হারায় এসব শেয়ার। তবে বাজারে সার্বিকভাবে দরপতন শেয়ারগুলোর পতনকে ত্বরান্বিত করেছে।

সূচকের পতনে গ্রামীণফোনের দরপতন ছিল সপ্তম অবস্থানে। কোম্পানিটির মুনাফায় প্রবৃদ্ধির ধারা কিছুটা স্লথ হয়ে আসার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাসের কারণে শেয়ারটি গত এপ্রিলের প্রথম দিন থেকে দর হারাচ্ছে। এর সঙ্গে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি থেকে প্রায় ১২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার কর দাবির ইস্যুটি দরপতনে নতুন মাত্রা দিয়েছে। গত সাড়ে পাঁচ মাসে শেয়ারটির দর ৪১৭ টাকা থেকে ৩০৪ টাকায় নেমেছে। গত তিন সপ্তাহেই শেয়ারটি দর হারিয়েছে প্রায় ১৬ টাকা।

গত তিন সপ্তাহে সূচকে এরপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এমন কোম্পানিগুলো হলো- বেক্সিমকো লিমিটেড (৬.৮৩ পয়েন্ট), পূবালী ব্যাংক (৫.৪৫ পয়েন্ট) এবং আইডিএলসি (৫.৩৩ পয়েন্ট)। এছাড়া অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, লাফার্জ-হোলসিম, ন্যাশনাল ব্যাংক, শাহজালাল ব্যাংক এবং সাউথইস্ট ব্যাংকের কারণে ৪ থেকে ৫ পয়েন্ট করে হারিয়েছে সূচক।

সূচকের পতন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, একক খাত হিসেবে ব্যাংকের কারণেই গত তিন সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক হারিয়েছে অন্তত ৯২ পয়েন্ট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতিবাচক প্রভাব ছিল জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের। খাতটির অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনে সূচক হারিয়েছে ৪৪ পয়েন্ট। বস্ত্র খাতের কারণে সূচক হারিয়েছে ৩২ পয়েন্ট, প্রকৌশল খাতের কারণে ২৪ পয়েন্ট এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কারণে হারিয়েছে প্রায় ২৪ পয়েন্ট। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমা খাতের কারণে ১৭ পয়েন্ট এবং সাড়ে ১৭ পয়েন্ট হারিয়েছে ডিএসইএক্স।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: