Runner Automobiles
Sea Pearl Beach Resort & SPA Ltd
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

বিরামপুরের আতঙ্ক তোছা


০৩ এপ্রিল ২০১৬ রবিবার, ০২:০৪  পিএম

দিনাজপুর করেসপন্ডেন্ট

শেয়ার বিজনেস24.কম


বিরামপুরের আতঙ্ক তোছা

বিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সেক্রেটারি তোছাদ্দেক হোসেন তোছা। সুযোগ সুন্ধানী তোছা নিজের স্বার্থে যে কোনো কাজে সিদ্ধহস্ত। তাই দল ত্যাগ না করেও ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় অবলীলায় চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের অপরাধকর্ম।

ক্ষমতাসীনদের কাছে নিজের আস্থা বাড়াতে গত পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর হয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনী প্রচারণাও করেছেন তিনি। এজন্য স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্কের চিড় ধরে। তবে পিছু হটেননি লোভী তোছা।

এলাকাবাসীরা সন্ত্রাসী, দখলবাজ ও চরিত্রহীন তোছার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পান। আর প্রশাসনে অভিযোগ দিয়ে কোন লাভ হয় না। কেননা, তোছা একা নন, তার সঙ্গে রয়েছেন আরও তিন সন্ত্রাসী। এরা হলেন সন্ত্রাসী মাহবুব এলাহী চৌধুরী রবিন, আব্দুল্লাহ আল শেফায়েত সোহাগ ও মেহরাব হোসেন সাজু।

মূর্তিমান আতঙ্ক তোছা বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে লাগামহীন দুর্নীতি, ক্যাডার বাহিনী দিয়ে চাঁদাবাজি এবং প্রতারণা করেছেন তোছাদ্দেক হোসেন তোছা। পরবর্তীকালে এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়। ওইসব মামলায় কারাগারেও থাকতে হয় এই সন্ত্রাসীকে। কিন্তু সেবারও জেল থেকে মুক্ত হয়ে আসেন তোছাদ্দেক হোসেন। হয়ে উঠেন আরো বেপরোয়া। মামলাবাজিতেও জুড়ি নেই তার। যাকে পছন্দ করেন না তাকে ঘায়েল করতে মামলা দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াতে তার জুড়ি নেই। এর আগে বসতবাড়িতে চুরির মামলা দিয়েও তিনি অনেককে ফাঁসিয়েছেন।

কিছু দিন আগে চুরি করা মোটরসাইকেল বিক্রি নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সতীর্থ এনামুলের সঙ্গে দ্বন্দ্ব হয় তার। বনিবনা না হওয়ায় এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন এনামুল। তোছাকে চোর সিন্ডিকেটের হোতা বলে দাবি করেন তিনি।

শুধু চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী আর মানুষকে নির্যাতনে করেই থেমে থাকেননি তিনি। রক্ষিতা রাখা আর যৌনক্ষুধা মেটাতে নিয়মিত পতিতালয়ে যাওয়াসহ এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তোছা। এ কাজে তাকে সহায়তা দিচ্ছেন স্থানীয় বিএনপির আরো তিন নেতা ও সন্ত্রসী মাহবুব এলাহী চৌধুরী রবিন, আব্দুল্লাহ আল শেফায়েত সোহাগ ও মেহরাব হোসেন সাজু।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তোছা আবাসিক বোর্ডিংয়ে দেহ ব্যবসার বখরা যেমন পান, তেমনি নিয়মিত খদ্দের হিসেবেও সেখানে যান। প্রতিদিনই তিনি আবাসিক বোর্ডিংয়ে আসেন নিজের যৌনক্ষুধা ও দেহব্যবসার লাভের অংশ বুঝে নিতে। বিরামপুরে বিভিন্ন সময়ে অসংখ্য নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে বার বারই আলোচনায় এসেছেন তোছাদ্দেক হোসেন। লম্পট তোছার বিচারের দাবিতে এ নিয়ে এলাকায় পোস্টারিংও করেছেন স্থানীয় মানুষ। তারপরও প্রভাবশালী তোছা নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বিঘ্নে। অভিযোগ রয়েছে, বিরামপুর মহিলা কলেজের পেছনে এক নারীকে বিলাসবহুল বাড়ি দিয়েছেন তোছাদ্দেক হোসেন। সেখানে ওই নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের পাশাপাশি তার অপরাধজগতের নানা অপকর্ম চালিয়ে গেলেও এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন।

তার বিকৃত যৌনক্ষুধা নিয়ে নিজের পরিবারের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন তোছাদ্দেক হোসেন। তার স্ত্রী উপজেলা মহিলা দল সেক্রেটারি উম্মে কুলসুম বানু বিভিন্ন সময়ে তার স্বামীর লাম্পট্যের রাশ টেনে ধরতে পাড়া-প্রতিবেশী ও স্বজনদের কাছে নালিশ জানিয়েছেন। কিন্তু রোখা যায়নি তোছাকে।

তবে আব্দুল্লাহ আল শেফায়েত, মাহবুবে এলাহী চৌধুরী রবিন এবং মেহরাব হোসেন সাজুদের সহায়তায় প্রতিবারই বেঁচে গেছেন তোছাদ্দেক হোসেন। রক্ষীতা বা পতীতার সঙ্গে সময় কাটানার সময় এদের পাহারায় রাখেন তিনি। শুধু কি দেহ ব্যবসা নয়, মাদকের ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত তোছা। তার মাদক ব্যবসায় ঠিকাদার হচ্ছেন মাস্তান সোহাগ।

তোছা নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য নিজের বড় মেয়েকেও ব্যবহার করেন বলে জানান স্থানীয়রা। তদবিরসহ নানা কাজ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য বড় মেয়ে তৌফিকা আরমানকেও যোগ্য করে গড়ে তুলেছেন তিনি। তোছার অপকর্মে যুক্ত থাকা তৌফিকার সঙ্গে তার স্বামীরও কোনো সম্পর্ক নেই। বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য তোছা তার এই মেয়েকে কাজে লাগান বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: