ঢাকা   বুধবার ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চেয়ারম্যান বিতর্কে চাপ বাড়ছে ইসলামী ব্যাংকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা চাইল ব্যাংক

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:০২, ৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ

চেয়ারম্যান বিতর্কে চাপ বাড়ছে ইসলামী ব্যাংকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার সহায়তা চাইল ব্যাংক

চেয়ারম্যান নিয়োগকে ঘিরে চলমান বিতর্ক ও গ্রাহকদের বাড়তি আমানত উত্তোলনের চাপের মধ্যে নতুন করে তারল্য চ্যালেঞ্জে পড়েছে Islami Bank Bangladesh PLC। পরিস্থিতি সামাল দিতে Bangladesh Bank-এর কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক সহায়তা চেয়েছে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটি।

সোমবার এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঈদুল আজহার ছুটির পর গত রোববার পর্যন্ত টানা পাঁচ কার্যদিবসে ব্যাংকটিতে জমার তুলনায় প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বেশি উত্তোলন হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এই নগদ উত্তোলন উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের ধারণা, চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান আলোচনা ও অনিশ্চয়তার কারণে কিছু গ্রাহক সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন এবং আমানত তুলে নিচ্ছেন। এর ফলে ব্যাংকটির ওপর নগদ অর্থের চাপ বেড়েছে।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত উত্তোলনের কারণে ব্যাংকটি আবারও বিধিবদ্ধ নগদ সংরক্ষণ বা সিআরআর (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও) বজায় রাখতে চাপের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় সম্ভাব্য তারল্য সংকট মোকাবিলা এবং গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিশেষ সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষিত চলতি হিসাবে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ রয়েছে। তবে সিআরআর ঘাটতির ঝুঁকি এড়ানো এবং গ্রাহকদের নগদ অর্থের চাহিদা নির্বিঘ্নে পূরণের লক্ষ্যেই সহায়তা প্রার্থনা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কিছুদিন আগেও বাংলাদেশ ব্যাংকে ব্যাংকটির চলতি হিসাবে ৭ হাজার ১৫ কোটির বেশি টাকা জমা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমানত উত্তোলনের চাপ বাড়ায় সেই স্থিতি কমে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

এদিকে সম্প্রতি Khurshid Alam-কে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর একটি পক্ষ ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে আন্দোলন শুরু করে। গত ১ জুন থেকে চলমান কর্মসূচিতে তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে খুরশীদ আলম বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল বলেও দাবি করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে S Alam Group-এর নিয়ন্ত্রণে ছিল ইসলামী ব্যাংক। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। পরবর্তীতে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদেও পরিবর্তন আনা হয়। সাম্প্রতিক এসব পরিবর্তনের পর ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি ও সামগ্রিক কার্যক্রম আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

সর্বশেষ