ঢাকা   মঙ্গলবার ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বড় সিদ্ধান্ত আজ, ৫টি বন্ধের পথে

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:১৯, ৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ

৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বড় সিদ্ধান্ত আজ, ৫টি বন্ধের পথে

দেশের আর্থিক খাতে দীর্ঘদিনের সংকট মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর্থিকভাবে দুর্বল ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে মঙ্গলবার (৯ জুন) বিশেষ বোর্ড সভা আহ্বান করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সভায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে অবসায়ন (লিকুইডেশন) বা বন্ধের প্রক্রিয়ায় নেওয়া এবং বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে দুপুর ১টায় অনুষ্ঠিতব্য এ সভায় দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থা, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত, পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং প্রশাসক নিয়োগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

যেসব প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে, সেগুলো হলো— ফার্স্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্ট ফ্রেন্ড লিমিটেড, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড, বিপুলস লিভিং অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেড এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেড।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিসিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল লিমিটেড, জিএসপি ফিন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড এবং প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণে তিন মাস সময় দেওয়া হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অবসায়নের জন্য বিবেচনায় থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি আমানতকারীদের প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। এসব অর্থ কীভাবে গ্রাহকদের কাছে ফেরত দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বোর্ড সভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। বোর্ডের অনুমোদন মিললে প্রশাসক নিয়োগের পাশাপাশি আমানত ফেরতের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত তিন মাসের মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের মূল অর্থ পরিশোধে সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে। ব্যর্থ হলে সেসব প্রতিষ্ঠানকেও রেজল্যুশন বা অবসায়ন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারল্য সংকট, খেলাপি ঋণের উচ্চ হার এবং দুর্বল করপোরেট সুশাসনের কারণে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত গভীর সংকটে রয়েছে। অনেক গ্রাহক বছরের পর বছর আমানতের টাকা ফেরত না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সর্বশেষ