JAC EnergyPac Power
Crystal Life Insurance
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

লেনদেনের প্রায় অর্ধেক ব্যাংকের শেয়ারের


২১ নভেম্বর ২০২১ রবিবার, ০৩:০৭  পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

শেয়ার বিজনেস24.কম


লেনদেনের প্রায় অর্ধেক ব্যাংকের শেয়ারের

লেনদেনের প্রায় অর্ধেক ব্যাংকের। সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির মধ্যে নতুন তালিকাভুক্ত দুটি বাদ দিলে কেবল ব্যাংক আর ব্যাংক। সূচকে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট যোগ করেছ, এমন ১০টি কোম্পানির ৭টিও এই খাতের।

এই অবস্থাতেও সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার সূচক কমে গেছে। তবে লেনদেনে দেখা গেছে ঊর্ধ্বগতি। ২৬ কর্মদিবসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

গত ১৩ অক্টোবর লেনদেন ছিল ১ হাজার ৯৫২ কোটি ৯৯ লাখ ১৮ হাজার টাকা। ২৬ তম কর্মদিবসে আজ হাতবদল হয়েছে এক হাজার ৭৮৬ কোটি ২৭ লাখ ১৮ হাজার টাকা।

এই লেনদেনের মধ্যে কেবল ব্যাংক খাতে হাতবদল হয়েছে ৭৭৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

ব্যাংকময় পুঁজিবাজারে প্রধান খাতগুলোর মধ্যে ভালো দিন গেছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও আর্থিক খাতে। অন্য খাতগুলোর মধ্যে প্রকৌশল, সিমেন্ট, খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ ও রসায়ন, বিমা, বস্ত্র, টেলিকমিউনিকেশনস খাতে ঘটেছে দরপতন।

ব্যাংকের পাশাপাশি একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে ঘুমিয়ে থাকা মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে। তবে দর বৃদ্ধির হার আর লেনদেন খুব একটি বেশি নয়। বেশিরভাগ ইউনিটের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ পয়সা। অল্প কিছু ইউনিটের দর বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ পয়সার মধ্যে।

আর্থিক খাতেও বেড়েছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর। মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মতোই এই খাতেও দর বৃদ্ধির হার খুব একটি বেশি নয়।

সব মিলিয়ে যতগুলো কোম্পানির দর বেড়েছে, কমেছে তার প্রায় দ্বিগুণ। বেড়েছে ১১৪টি কোম্পানির দর, কমেছে ২২৯টির।

২০১০ সালের মহাধসের পর হতাশার ব্যাংক খাত করোনার মধ্যে শক্তি দেখিয়েছে। এই সময়ে প্রায় সব কোম্পানির আয় বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে লভ্যাংশ। চলতি অর্থবছর গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি আয় করতে পেরেছে ব্যাংকগুলো। তাই বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশের প্রত্যাশাও বাড়ছে।

তবে এর মধ্যেও গত বছরের জুন থেকে শুরু হওয়া উত্থানে অন্যান্য অনেক খাতের তুলনায় ব্যাংকের শেয়ারর দর বেড়েছে কমই। যদিও গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাজার সংশোধনের মধ্যে অন্যান্য খাতের তুলনায় এই খাতের কোম্পানিগুলো দর ধরে রাখতে পারে অনেকটা।

যেসব ব্যাংক গত দুই মাসে দর হারিয়েছিল, সেগুলো এই সময়ে যে পরিমাণ দর হারিয়েছে, তা এক দিনের উত্থানেই পুষিয়ে নিয়েছে।

গত সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবস সোমবার থেকেই ব্যাংকের এই উত্থান দেখা যাচ্ছে আর বেশিরভাগ ব্যাংকের দরই গত কয়েক বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানকে ছাড়িয়ে গেছে।

ব্যাংকের দিকে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকতে থাকায় অন্যান্য খাতে আগ্রহ কমছে। আর বাজার সংশোধনে লোকসানে পড়া বিনিয়োগকারীরা বাড়তে থাকা ব্যাংকে বিনিয়োগ করে তাদের লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন।

সব মিলিয়ে এই খাতের ৩২টি কোম্পানির মধ্যে বেড়েছে ২৭টির দর। সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারদরে উত্থান ঘটা এনআরবিসি ও ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার দর পড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। অন্য দুটির দর কমেছে সামান্য। একটির দর ছিল অপরিবর্তিত।

তবে সূচকে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখা কোম্পানিটি ব্যাংক খাতের নয়। এটি হলো খাদ্য খাতের ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানি।

তবে সূচকে পয়েন্ট যোগ করতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা ১০টি কোম্পানির আটটিই ছিল ব্যাংক খাতের। বাকি একটি কোম্পানি হলো ইউনাইটেড পাওয়ার।

আর ব্যাংক, বিএটিবিসির উত্থানের দিনও সূচক কমেছে ব্র্যাক ব্যাংক, ওয়ালটন, লাফার্জ, এসিআই, বিএসআরএম লিমিটেড, ডেল্টা লাইফ, এনআরবিসি, আইসিবি, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ও মবিল যমুনার দরপতনের কারণে।

তবে এসব কোম্পানির মধ্যে এসিআই, বিএসআরএম লিমিটেড ও অলিম্পিকের শেয়ারের দরপতন হয়েছে লভ্যাংশ সংক্রান্ত সমন্বয়ের কারণে। গত বৃহস্পতিবার এসব কোম্পানির রেকর্ড ডেট ছিল। এর মধ্যে এসিআই নগদের পাশাপাশি বোনাস শেয়ারও দিয়েছে। সেই হিসেবে বোনাস শেয়ারের সমন্বয় হয়েছে। বাকিগুলো কেবল নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। নগদ লভ্যাংশের সমন্বয় না হওয়ার কথা থাকলেও দেশের পুঁজিবাজারে এটি হয়ে থাকে।

আবার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া কোম্পানিটি হলো বেক্সিমকো লিমিটেড। শেয়ার প্রতি সাড়ে তিন টাকা লভ্যাংশ যারা নিতে চান, তাদের জন্য রোববারই শেয়ার কেনার শেষ সুযোগ ছিল। আর এদিন কোম্পানিটির ১২৭ কোটি ৮৮ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতবদল হয়েছে। দিনভর উঠানামা করতে করতে শেষ পর্যন্ত শেয়ারদর বেড়েছে ৭০ পয়সা।

সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ১০টি কোম্পানির সাতটিই ছিল ব্যাংক খাতের আর সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ২০টি কোম্পানির ১৩টি ছিল এই খাতের।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: