ML Dyeing IPO
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

বিশ্ব ইজতেমা শুরু শুক্রবার


১১ জানুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৭:৪২  পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক


বিশ্ব ইজতেমা শুরু শুক্রবার

 

টঙ্গীর তুরাগতীরে শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) শুরু হচ্ছে তাবলিগ জামাতের বৃহত্তম সম্মিলন বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব।

তিন দিনের ইজতেমার প্রথম পর্ব শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ১৪ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। চারদিন পর ১৯ জানুয়ারি শুরু হবে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব, যা শেষ হবে ২১ জানুয়ারি। এরই মধ্যে দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের পদচারণে মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা ইজতেমা ময়দান। এতে দেশ-বিদেশের প্রায় ২০-২৫ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটবে বলে আশা করছে ইজতেমা আয়োজক কমিটি।

ইজতেমা আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বাদ ফজর থেকে প্রস্তুতিমূলক বয়ান শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের মাওলানা মোশারফ হোসেন এ বয়ান করেন। মাগরিবের পর মূল বয়ান শুরু হবে। তবে এবার আখেরি মোনাজাত কে পরিচালনা করবেন, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। গত কয়েক বছর ভারতের মাওলানা সা’দ কান্ধলভি বিশ্ব ইজতেমায় বয়ান ছাড়াও আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেছেন। কিন্তু এবার তাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ব ইজতেমায় বয়ান ও মোনাজাত পরিচালনা নিয়ে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।

দিল্লির মাওলানা সা’দ কান্ধলভি বিশ্ব ইজতেমায় যোগ না দিলেও তা সুন্দরভাবে সমাপ্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বাংলাদেশের তাবলীগের মুরুব্বিরা। তাবলীগ জামাতের মুরুব্বি ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতির সব কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। দেশি-বিদেশি মুসুল্লিরা বুধবার থেকেই ইজতেমা ময়দানে অবস্থান নিতে শুরু করেন। আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মুসুল্লিদের এই আগমন অব্যাহত থাকবে।

ইজতেমা মাঠের মুরুব্বি প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘ইজতেমায় দুই ধাপে ২৭ জেলার মুসুল্লিরা অংশ নেবেন। প্রথম ধাপে ১৪ জেলা এবং দ্বিতীয় দফায় ১৪ জেলার মুসুল্লিরা ইজতেমায় অংশ নেবেন। এর মধ্যে ঢাকা জেলার মুসুল্লিরা দুই দফায়ই অংশ নেবেন। ২৮টি খিত্তায় অংশ নিবেন মুসল্লিরা। বাকি ৩৭ জেলার মুসুল্লিরা নিজ নিজ জেলায় আঞ্চলিক ইজতেমায় অংশ নেবেন।

যেসব জেলার মুসল্লীরা যোগ দিচ্ছেন
বিশ্ব ইজতেমার মাঠে প্রতি জেলার মুসুল্লিদের অবস্থানের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারিত থাকে। এ স্থানকে খিত্তা বলে। প্রথম দফায় অংশগ্রহণকারী জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে– ঢাকা (১-৮নং, ১৬ নং, ১৮ নং, ২০ নং ও ২১ নং খিত্তা), নারায়ণগঞ্জ (১২ নং ও ১৯ নং খিত্তা), মাদারীপুর (১৫ নং খিত্তা), গাইবান্ধা (১৩ নং খিত্তা), শেরপুর (১১ নং খিত্তা), লক্ষীপুর (২২-২৩ নং খিত্তা), ভোলা (২৫-২৬ নং খিত্তা), ঝালকাঠি (২৪ নং খিত্তা), পটুয়াখালী (২৮ নং খিত্তা) , নড়াইল (১৭ নং খিত্তা), মাগুরা (২৭ নং খিত্তা), পঞ্চগড় (৯ নং খিত্তা), নীলফামারী (১০ নং খিত্তা) ও নাটোর (১৪ নং খিত্তা)।

মুসুল্লিদের গাড়ি পার্কিং
গাজীপুর জেলা ট্রাফিক বিভাগের এএসপি মো. সালেহ উদ্দিন আহমদ জানান, ইজতেমা চলাকালীন জয়দেবপুর চান্দনা-চৌরাস্তা হয়ে আগত মুসুল্লিদের বহনকারী যানবাহনের জন্য টঙ্গীর কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিলস কম্পাউন্ড, মেঘনা টেক্সটাইল মিলের সামনের রাস্তার উভয় পাশে, সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি মাঠ প্রাঙ্গণ, সফিউদ্দিন সরকার একাডেমির মাঠের উত্তরে টিআইসি মাঠ, জয়দেবপুর থানাধীন ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠ, চান্দনা-চৌরাস্তা হাইস্কুল মাঠ, জয়দেবপুর চান্দনা-চৌরাস্তা ট্রাকস্ট্যান্ড এবং নরসিংদী-কালীগঞ্জ হয়ে আগত মুসুল্লিদের বহনকারী যানবাহন টঙ্গীর কে-টু নেভি), সিগারেট ফ্যাক্টরি সংলগ্ন খোলা জায়গায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যান চলাচলে নির্দেশনা
ইজতেমায় আগত মুসুল্লিদের যানবাহন পার্কিংয়ের জন্য বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে উত্তরবঙ্গ থেকে আসা টঙ্গী-ঢাকাগামী যানবাহন চান্দনা-চৌরাস্তা হয়ে কোনাবাড়ি, চন্দ্রা-ত্রিমোড়, বাইমাইল, নবীনগর, আমিনবাজার হয়ে চলাচল করবে। এছাড়া ১১-১৩ জানুয়ারি ও ১৮-২০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাস্তুহারা থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত মহাসড়ক, স্টেশন রোড ওভারব্রিজ থেকে টঙ্গী রেলগেট ও মন্নু ট্রেক্সটাইল মিল থেকে কামারপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত সড়কে মোটরযান ছাড়া রিকশা, ভ্যান ইত্যাদি চলাচল বন্ধ থাকবে।

আখেরি মোনাজাতের দিন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা-চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত কালীগঞ্জ-টঙ্গী সড়কের মাজুখান ব্রিজ থেকে স্টেশন রোড ওভারব্রিজ পর্যন্ত এবং কামারপাড়া ব্রিজ থেকে মন্নু টেক্সটাইল মিলগেট পর্যন্ত সড়কপথ বন্ধ থাকবে। এর আগে ১৩ জানুয়ারি এবং ২০ জানুয়ারি রাত ১০টা থেকে টঙ্গীর নিমতলী রেলক্রসিং, কামারপাড়া ব্রিজ ও ভোগড়া বাইপাস দিয়ে ইজতেমাস্থলের দিকে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে ভোগড়া বাইপাস মোড় থেকে মুসুল্লিদের নিয়ে ইজতেমাস্থলের দিকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত শাটল বাস চলাচল করবে। তবে বিকল্প হিসেবে ভোগড়া বাইপাস দিয়ে কোনাবাড়ি ও চন্দ্রা হয়ে এবং বিপরীত দিকে ৩০০ ফুটের রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল করবে।

নৌযান চলাচলে নির্দেশনা
এছাড়া ৯ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত কামারপাড়া সেতু থেকে টঙ্গী সেতু পর্যন্ত তুরাগ নদীতে সব ধরনের নৌযান চলাচল ও নোঙর বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনে বিভিন্ন নৌযান টঙ্গী সেতুর পূর্ব পাশে এবং কামারপাড়া ব্রিজের উত্তর পাশে নোঙর করতে পারবে। নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও সদরঘাট থেকে ৬টি ওয়াটার বাস টঙ্গী পর্যন্ত মুসুল্লি বহন করবে।

র‌্যাবের ব্রিফিং
বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে ইজতেমা ময়দানের পাশে র‌্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্পে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আনোয়ার লতিফ খান বলেন, ‘ইজতেমার কার্যক্রম যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, এজন্য অন্যান্য বাহিনী এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে র‌্যাব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সম্ভাব্য সব ঝুঁকি পর্যালোচনা করে আমরা এ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ইজতোমা ও আশেপাশের এলাকায় জল, স্থল ও আকাশপথে ত্রিমাত্রিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। পুরো এলাকায় ওয়াচ টাওয়ার থেকে নাইট ভিশন বাইনুকুলার ব্যবহার করা হবে। ইজতেমাস্থল ও আশেপাশের এলাকায় আমাদের পর্যাপ্ত সংখ্যক জনবল নির্ধারিত পোশাকে ও সাদা পোশাকে নিয়োজিত থাকবে। বিশেষ করে, বিদেশ থেকে যে সব অতিথি আসছেন, তাদের এলাকার ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রস্ততি আছে। ঢাকা শহরে যে ব্যাটেলিয়ানগুলো আছে, প্রতি ব্যাটেলিয়ান থেকে পর্যাপ্ত সংখ্যক জনবল আমরা এয়ারমার্ক করে রেখেছি। যে কোনও জায়গায় যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব।’
পুলিশ সুপারের ব্রিফিং

এরপর দুপুর দেড়টার দিকে ইজতেমাস্থলের পাশে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বলেন, ‘ইজতেমার নিরাপত্তায় র্যা ব, পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ৬ হাজার সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। মেটাল ডিটেক্টর, ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার ও ৪১টি সিসি ক্যামেরা দিয়ে পুরো ইজতেমাস্থল পর্যবেক্ষণ করা হবে। সাদা পোশাকে প্রতি খিত্তায় ৬ জন করে পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া রোহিঙ্গাদের ওপরও নজরদারি করা হবে। ইজতেমা এলাকা হকার ও ভিক্ষুকমুক্ত রাখা হবে। এজন্য গত রবিবার থেকে ইজতেমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাজীপুরের পুলিশ সদস্যদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ইজতেমা ময়দানগামী সড়কগুলোতে ট্রাফিক পুলিশের ১৮শ’ সদস্য দায়িত্বপালন করবেন। এছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদাভাবে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র্যা ব ও ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে।’
ট্রেনের যাত্রাবিরতি

ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মো. গাউস আল মুনির জানান, ইজতেমা চলাকালে বিশেষ ট্রেন চালু হবে এবং প্রতিটি ট্রেন টঙ্গী রেলওয়ে জংশনে দুই মিনিট করে যাত্রাবিরতি করবে।

বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ইজতেমা এলাকায় পাঁচটি ফিডারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল জানান, এ বছর ১৫টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে ইজতেমায় আগত মুসুল্লিদের অজু-গোসলের জন্য প্রতিদিন প্রায় চার কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হবে। এছাড়া মুসুল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক টয়লেট ও গোসলখানা স্থাপন করা হয়েছে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এমএ মান্নান জানান, ২৬টি ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধনের ঔষধ স্প্রে করা হবে। ২১টি গার্বেজ ট্রাকের মাধ্যমে ইজতেমা ময়দান থেকে বর্জ্য অপসারণ, ধূলাবালি নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা ও ময়দান এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হবে। এখানে বিদেশি ক্যাম্পে রান্নার জন্য ১৩৬টি গ্যাসের চুলা স্থাপন করা হবে।

গাজীপুর সিভিল সার্জন সৈয়দ মঞ্জুরুল হক জানান, টঙ্গী হাসপাতালে বার্ন ইউনিট, অর্থোপেডিক্স ও ট্রমা, চর্ম-যৌন সার্জারি, অ্যাজমা, কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞসহ ছাড়াও তাদের তিনটি অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পে শতাধিক চিকিৎসক, স্বাস্থকর্মী ও অফিস সহায়ক ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করবে। মুসুল্লিদের সেবা দিতে ১৪টি অ্যাম্ব্যুলেন্স মোতায়েন থাকবে। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য ৪৫টি চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র স্থাপন করছে। ১১ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত থেকে চিকিৎসকসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর জানান, ইজতেমা এলাকাসহ আশেপাশের এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার পাশাপাশি হোটেল রেস্তোরায় বিশুদ্ধ খাবার নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মুসুল্লিদের যাতায়তের জন্য তুরাগে ৭টি ভাসমান ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। তুরাগে নৌ-টহল ছাড়াও ডুবুরিদল মোতায়েন থাকবে।

 

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: