Sahre Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

৬ মাসে রফতানি ঘাটতি সাড়ে ৩ শতাংশ


০৫ জানুয়ারি ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ০২:৩৬  পিএম

শেয়ার বিজনেস24.কম


৬ মাসে রফতানি ঘাটতি সাড়ে ৩ শতাংশ

চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রফতানি আয়ে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রফতানি কম হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ। আলোচ্য সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রফতানি কম হয়েছে প্রায় ৫৭ কোটি মার্কিন ডলার বা ৪ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮০ টাকা হিসাবে)। আর গেল ডিসেম্বরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রফতানি আয় কমেছে সোয়া সাত শতাংশ। শুধু তাই নয়, পূর্বের বছরের ডিসেম্বরের চাইতে গত ডিসেম্বরে রফতানি কমে গেছে তিন শতাংশ। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো’র (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী এমন তথ্য জানা গেছে।
 
রফতানি আয়ের ৮২ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এ খাতের রফতানিকারকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী চাহিদা না বেড়ে উল্টো কমতির দিকে। ফলে গার্মেন্টস পণ্যের দাম কমে গেছে। এ অবস্থায় রফতানি পরিমাণে বাড়লেও টাকার অঙ্কে কম। অন্যদিকে প্রতিযোগী দেশগুলোর নিজ নিজ মুদ্রার মান কমায় তারা রফতানির বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রা বেশি পেলেও বাংলাদেশে উল্টো। দেশে ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হয়েছে। ফলে রফতানির বিপরীতে টাকা কম পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক আশুলিয়ার শ্রম অসন্তোষও একটি কারণ বলে মনে করছেন তারা।
 
এদিকে ডিসেম্বরে রফতানি আয় কমে যাওয়াকে দুশ্চিন্তার বিষয় বলে মনে করলেও অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে বলে আশা করছে। ইপিবি’র ভাইস চেয়ারম্যান মাফরূহা সুলতানা ইত্তেফাককে বলেন, ছয় মাসের রফতানি আয়ের পরিসংখ্যান কিছুটা দুশ্চিন্তার। বিশেষ করে ডিসেম্বরে রফতানি আয় কমে যাওয়া উদ্বেগের। এর পেছনে সাম্প্রতিক আশুলিয়ার কারখানা বন্ধ থাকা, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন বা অন্য কোন কারণ রয়েছে কিনা সেটি দেখার চেষ্টা করব। এ লক্ষ্যে শিগগিরই বেসরকারি খাতের সঙ্গে বসব। তবে এ পরিসংখ্যান দেখে এখনই বলা যাবে না যে, লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হচ্ছে না। বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব বলে আশা করছি।
 
রফতানি কমার কারণ ব্যাখ্যা করে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, আশুলিয়ায় শ্রম অসন্তোষে অনেকগুলো কারখানা বেশ কয়েকদিনের জন্য উত্পাদন কাজ চালাতে পারেনি। এর ফলে অনেকেই হয়ত ডিসেম্বরে আদেশ অনুযায়ী রফতানি করতে পারেন নি। অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী তৈরি পোশাকের দাম বাড়ছে না। ফলে রফতানির পরিমাণ বাড়লেও সে হারে টাকার অঙ্কের বাড়ছে না। চাহিদাও কমতির দিকে। যিনি আগে বছরে হয়ত ৭টি শার্ট কিনতেন, তিনি এখন ৫টি কিনছেন। দেশেও কিছু বাধা রয়েছে। গ্যাস বিদ্যুতের সঙ্কটের পাশাপাশি দামও বাড়ছে। রয়েছে অবকাঠামো সমস্যা। এসব কারণে উত্পাদন বাড়ায় সক্ষমতা কমছে। সার্বিকভাবে এটিও একটি কারণ হতে পারে। অবশ্য চলতি বছর ভালো যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
 
গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩ হাজার ৪২৬ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। চলতি বছর ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে ৩ হাজার ৭শ’ কোটি ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার। জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৭৩৭ কোটি ডলার। রফতানি হয়েছে ১ হাজার ৬৮০ কোটি ডলার। অর্থাত্ আলোচ্য সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫৭ কোটি ডলার বা ৪ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার (প্রতি ডলার ৮০ টাকা হিসেবে) রফতানি কম হয়েছে।
 
প্রধানরফতানি পণ্য গার্মেন্টসের মধ্যে নিটওয়্যার রফতানি প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। আর ওভেন রফতানি বেড়েছে প্রায় তিন শতাংশ। তবে লক্ষ্যামাত্রার চেয়ে ওভেন রফতানি কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। এ দুটি পণ্যের বাইরে বেশিরভাগ পণ্যের রফতানিই গত ছয় মাসে কমেছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশ খানিকটা পিছিয়ে রয়েছে।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: