Oimex Electrode Limited
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

৪০ ব্যাংক উদ্যোক্তার ঋণ মূলধনের ছয়গুণ


১১ মে ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ১০:৫৪  এএম

শেয়ার বিজনেস24.কম


৪০ ব্যাংক উদ্যোক্তার ঋণ মূলধনের ছয়গুণ

দেশের বেসরকারি খাতের ৪০টি ব্যাংকের উদ্যোক্তারা মূলধন হিসেবে জোগান দিয়েছেন প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। আর গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোয় জমা হয়েছে ৫ লাখ ৮২ হাজার ৭১৮ কোটি টাকার আমানত। এ হিসাবে উদ্যোক্তাদের জোগান দেয়া মূলধন ব্যাংকগুলোয় থাকা আমানতের ৩ শতাংশেরও কম।

আবার বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তারা গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিয়েছেন প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। অর্থাৎ মূলধনের ৬ গুণের বেশি ঋণ গেছে তাদের কাছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত এ ঋণের প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকাই নিয়েছেন পরিচালকরা।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে পরিচালকদের কাছে সবচেয়ে বেশি ঋণ রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা।

এছাড়া ব্যাংক উদ্যোক্তাদের কাছে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। বেসরকারি এক্সিম ও ব্যাংক এশিয়া থেকেও বড় অংকের ঋণ নিয়েছেন পরিচালকরা। এ দুই ব্যাংক থেকে পরিচালকদের ঋণের পরিমাণ যথাক্রমে ৪ হাজার ৫৬৯ কোটি ও ৩ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা।

এর বাইরে ব্যাংক পরিচালকদের কাছে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে ঢাকা ব্যাংকের ৩ হাজার ৭২২ কোটি, এবির ৩ হাজার ৫৩৬ কোটি, শাহজালাল ইসলামীর ৩ হাজার ২৫৯ কোটি, সোস্যাল ইসলামীর ৩ হাজার ১৫৫ কোটি, ইউনাইটেড কমার্শিয়ালের ৩ হাজার ৬৬ কোটি ও যমুনা ব্যাংকের ৩ হাজার ১৬ কোটি টাকা।

পরিচালকদের কাছে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে প্রাইম, ব্র্যাক, পূবালী, ডাচ্-বাংলা, ট্রাস্ট ও এনসিসি ব্যাংকের। এর মধ্যে প্রাইম ব্যাংকের ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৯৭৬ কোটি, ব্র্যাকের ২ হাজার ৯৩০ কোটি, পূবালীর ২ হাজার ৭৯৭ কোটি, ডাচ্-বাংলার ২ হাজার ৩৫৭ কোটি, ট্রাস্টের ২ হাজার ৩০৩ কোটি ও এনসিসি ব্যাংকের ২ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা।

এছাড়া সাউথইস্ট ব্যাংক ১ হাজার ৯৯০ কোটি, ওয়ান ১ হাজার ৮২৭ কোটি, প্রিমিয়ার ১ হাজার ৭৮৭ কোটি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ১ হাজার ৭৪৫ কোটি, মার্কেন্টাইল ১ হাজার ৬৬৭ কোটি ও আইএফআইসি ব্যাংক ১ হাজার ৪০২ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালকদের।

নতুন কার্যক্রমে আসা এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকও বিভিন্ন ব্যাংক পরিচালকদের ৫১৪ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। এছাড়া মধুমতির ৩৫২ কোটি, মিডল্যান্ডের ৩৪৯ কোটি, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্সের ৩২৫ কোটি, মেঘনার ৩০১ কোটি ও ফারমার্স ব্যাংকের ১৮৪ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে ব্যাংক উদ্যোক্তাদের কাছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বড় ব্যবসায়ীরাই বেসরকারি খাতের ব্যাংক গড়ে তুলেছেন। তারাই আবার ব্যাংকিং খাত থেকে বড় অংকের ঋণ নিচ্ছেন। ঋণ নিয়ে আবার খেলাপিও হচ্ছেন। এ ধরনের গ্রাহকরা ব্যাংকিং খাতের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছেন। তাদের চাপের কারণেই ব্যাংক কোম্পানি আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে, যার যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। এর মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাতের সুশাসনে ঘাটতি আরো বাড়বে।

যদিও বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের দাবি, আমানতকারীদের আস্থা ও বিশ্বাস বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকদের ওপর রয়েছে বলেই সাধারণ মানুষ ব্যাংকে আমানত রাখছেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিদেশী ব্যাংকগুলো থেকেও গত ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তারা। এর মধ্যে শুধু জনতা ব্যাংক থেকেই নিয়েছেন প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ।

এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক থেকে নিয়েছেন প্রায় ৩ হাজার কোটি ও অগ্রণী ব্যাংক থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ঋণ। পাশাপাশি বেসিক ব্যাংক থেকে ৫৭১ কোটি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে ৫৪৪ কোটি ও রূপালী ব্যাংক থেকে ৫১৭ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছেন বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তারা।

রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতাউর রহমান প্রধান বলেন, প্রমাণিত সত্য না হলেও এটা বলা যায়, সরকারি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়েই বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালক হয়েছেন অধিকাংশ ব্যবসায়ী। সাধারণ মানুষ বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে ব্যাংকে আমানত রাখেন। সে আমানতের টাকায় একটি ব্যাংক তার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। অতএব, আমানতকারীরাই ব্যাংকের প্রাণভ্রমর। কিছু শেয়ার কিনে ব্যাংকের নিরঙ্কুশ মালিকানা দাবি করা ঠিক নয়।

আমানতকারীদেরই ব্যাংকের মূল শক্তি বলে জানান ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক সভাপতি ও মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল আমিন। তিনি বলেন, দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় পরিচালকরা যে মূলধন জোগান দিয়েছেন, তা আমানতের ৩ শতাংশেরও কম

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: