Oimex Electrode Limited
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে ঝগড়া, ঘরজামাইকে খুন করলো শ্বশুর


২০ এপ্রিল ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ০৮:৪৭  পিএম

শেয়ার বিজনেস24.কম


স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে ঝগড়া, ঘরজামাইকে খুন করলো শ্বশুর

রাজধানীর কেরানীগঞ্জে স্ত্রীর পরকীয়ার সন্দেহ নিয়ে ঝগড়ায় শ্বশুরের হাতে প্রাণ গেলো জুয়েল রানা (৩৩) নামে এক ঘরজামাইয়ের।

বুধবার সকালে কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল প্রজেক্টের কাছে একটি সেতুর নিচ থেকে লাশ উদ্ধার করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।

নিহত জুয়েল রানার ভাই মেহেদী হাসান জানান, জুয়েল রানা ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কাজ করতেন। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের হিজলা থানায়।

এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে বলে জানান দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম।

স্থানীয় লোকজন জানায়, প্রায় সাত বছর আগে কেরানীগঞ্জের জাহাঙ্গীর শেখের মেয়ে চম্পা আক্তার আঁখির (২৪) সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল জুয়েলের। আঁখি ঢাকা মহানগর কলেজের অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক শ্রেণিতে পড়ছেন। বিয়ের পর থেকেই আঁখি তার নিজের বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছেন। জুয়েল শ্বশুড়বাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে থাকতেন। বছরখানেক আগে জুয়েল তার স্ত্রীকে নিয়ে সন্দেহ শুরু করেন। আঁখি প্রায়ই মোবাইল ফোনে অন্য ছেলেদের সঙ্গে কথা বলতেন। এ নিয়ে সম্প্রতি আঁখির সঙ্গে জুয়েলের ঝগড়া হয়। এতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মারধর করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরপর জুয়েল রাগ করে কেরানীগঞ্জের শ্বশুড়বাড়ি থেকে চলে যান।

আরো জানা যায়, ২০ দিন আগে  জুয়েল ও তার স্ত্রী আঁখি বরিশালে কিছু দিনের জন্য ঘুরে আসেন। ফিরে এসে জুয়েলকে ঢাকায় আলাদা বাসা নিতে বলেন আঁখি। তারা মিরপুর এলাকায় শেওড়াপাড়ায় ভাড়া বাসা নেন। গত ১৫ এপ্রিল গিয়ে সেখানে ওঠেন তারা। পরের দিন তারা জুয়েলের খালুর বাসায় বেড়াতে যান। সেখানে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর জুয়েলের শ্বশুর আঁখিকে ফোন করে জামাইকে নিয়ে কেরানীগঞ্জে যেতে বলেন। কিন্তু জুয়েল যেতে রাজি হননি। আঁখির পীড়াপিড়িতে জুয়েল শ্বশুরবাড়ি যান।

নিহত জুয়েলের বাবা এ এস এম হারুনুর রশিদ বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে জুয়েলের স্ত্রীর সঙ্গে আঁখির ঝগড়া চলে আসছিল। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ছেলে জুয়েলের মোবাইলে ফোন দিলে নম্বর বন্ধ পান তিনি। বুধবার সকালে তার নম্বরে ফোন দিলে এক পুলিশ সদস্য ফোন রিসিভ করে জানান, তারা জুয়েলের লাশ উদ্ধার করেছেন।

এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন বলে জানান হারুনুর রশিদ। মামলায় তার ছেলের বউ আঁখি, জুয়েলের শ্বশুরসহ ছয়জন এবং অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শশক (এসআই) কবির হোসেন জানান, সকালে ঝিলমিল প্রজেক্ট এলাকা থেকে জুয়েলের লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: