Sahre Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

সুদহারের নিম্নমুখী প্রবণতা রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরামর্শ


০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বুধবার, ১০:৪৪  এএম

শেয়ার বিজনেস24.কম


সুদহারের নিম্নমুখী প্রবণতা রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরামর্শ

আমানতকারীদের দুঃখ বুঝল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমানতের সুদহার কমতে কমতে এমন এক অবস্থায় ঠেকেছে, সঞ্চয়ের ওপর নির্ভরশীল অনেকেরই ঠিকমতো সংসার চলছে না। বেশিরভাগ সঞ্চয় স্কিমে সুদের হার এখন মূল্যস্ফীতির নিচে। এ অবস্থায় ব্যাংকগুলোকে আমানতের সুদহারের নিম্নমুখী প্রবণতা রোধ করার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদ ঋণের সুদের তুলনায় দ্রুত কমে অনেক ক্ষেত্রে ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। আমানতের সুদের অত্যধিক হ্রাস সঞ্চয় প্রবণতাকে ক্ষুণ্ন করছে এবং সঞ্চয়ের বদলে অপচয়মূলক ভোগ ও অন্যান্য অনুৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের প্রবণতার ঝুঁকি বাড়ছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে দায় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হতে পারে, যা বাঞ্ছনীয় নয়। এমন প্রেক্ষাপটে আমানতের ওপর সুদের নিম্নগামী প্রবণতা রোধের বিষয়ে সক্রিয় থাকার জন্য পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে। ঋণের সুদ নিম্নগামী ধারায় রাখার জন্য ঋণ ও আমানতের মধ্যকার সুদহারের ব্যবধান (স্প্রেড) কমাতে হবে। এ ছাড়া খেলাপি ঋণ আদায়সহ ব্যবস্থাপনা দক্ষতার বিভিন্ন দিকে নজর রেখে স্প্রেড কমাতে হবে। তবে এজন্য ঋণের সুদহার যেন না বাড়ে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, আমানতের সুদহার দ্রুত কমে আসার কারণে অনেকেই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়ে সঞ্চয়পত্র, শেয়ারবাজার বা অন্য খাতে বিনিয়োগ করছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ব্যাংকিং খাত ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক পরোক্ষভাবে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করল।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে এক অনুষ্ঠানে ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, আমানতকারীরা এখন দুঃসময় পার করছেন। আমানতের সুদহার মূল্যস্ফীতির নিচে নেমে এসেছে। এতে গ্রাহকরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেকে ব্যাংকে টাকা না রেখে নিজের কাছে বা অন্যত্র রাখছেন। এই অবস্থার উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে উদ্যোগী হতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির গোলাম রহমানের এই বক্তব্য সমর্থন করে বলেন, এটা ঠিক। অনেকে এখন ব্যাংকে টাকা না রেখে অন্যত্র রাখছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের সুদহার অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এটা কমিয়ে আনতে গিয়ে আমানতের সুদহারও কমে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য মতে, ব্যাংক খাতে গত ডিসেম্বরে আমানতের গড় সুদহার ৫ দশমিক ২২ শতাংশে নেমেছে। প্রতি মাসেই এ হার কমছে। বেশিরভাগ ব্যাংকে ৩ মাস থেকে শুরু করে ২ বছর মেয়াদি এফডিআরের সুদহার ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে। সঞ্চয়ী হিসাবে সুদহার আরও কম। গত জানুয়ারিতে দেশে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ। এর মানে টাকা রেখে প্রকৃত পক্ষে কোনো সুদ পাওয়া যায় না। আমানতের সুদের ওপর করও কাটা হয়। সুদের ওপর ১০ শতাংশ উৎসে কর রয়েছে। টিআইএন না থাকলে এ হার ১৫ শতাংশে।

দেশে মোট ৫৬টি ব্যাংকে আমানত হিসাবের সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি। আর ব্যাংকে আমানতের পরিমাণ ৮ লাখ কোটি টাকার বেশি। এর অর্ধেকের বেশি মেয়াদি আমানত। সঞ্চয়ী আমানত রয়েছে ২০ শতাংশের মতো। মোট আমানতের মধ্যে বেসরকারি খাতের অংশ ৮৩ শতাংশ। বাকিটা সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের। আমানতের সুদহার কমে যাওয়ার কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের ওপরও প্রভাব পড়েছে। সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের বড় অঙ্কের আমানত রয়েছে।


শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: