Runner Automobiles
Sea Pearl Beach Resort & SPA Ltd
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

সর্বোচ্চ যে দামে শেয়ার কিনতে পারবে ব্যাংক


২৭ মে ২০১৯ সোমবার, ০২:৪১  পিএম

শেয়ার বিজনেস24.কম


সর্বোচ্চ যে দামে শেয়ার কিনতে পারবে ব্যাংক

 

তালিকাবহির্ভূত সিকিউরিটিজে তফসিলি ব্যাংকের বিনিয়োগকে পুঁজিবাজারে তাদের এক্সপোজার গণনা করা হবে না, ১৬ মে এমন ঘোষণার পর তালিকাবহির্ভূত বিভিন্ন সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের সময় করণীয় খুঁটিনাটি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেকোনো দামে তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির শেয়ার কেনার প্রবণতা রোধে ক্রয়কালীন শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্যের (এনএভিপিএস) সর্বোচ্চ ১১০ শতাংশের একটি সীমা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল এক প্রজ্ঞাপনে নন-লিস্টেড সিকিউরিটিজে তফসিলি ব্যাংকের বিনিয়োগ-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগ। সেখানে বলা হয়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন সিকিউরিটিজে তফসিলি ব্যাংকের বিনিয়োগ ঝুঁকি গ্রহণযোগ্য মাত্রায় রাখার উদ্দেশ্যে অতালিকাভুক্ত শেয়ার, নন-কনভার্টিবল কিউম্যুলেটিভ প্রেফারেন্স শেয়ার, নন-কনভার্টিবল বন্ড, ডিবেঞ্চার ও বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ নীতিমালা অনুসরণীয় হবে।

অতালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের ইস্যুয়ার বা এর উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির সম্পর্ক থাকলে সেখানে বিনিয়োগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিলেটেড পার্টি ট্রান্সজেকশন সম্পর্কিত সব বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে। এর আগে অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগের পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপনে ১৬ মে স্পেশাল পারপাস ভেহিকল (এসপিভি), অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বা সমজাতীয় তহবিলের মাধ্যমে বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প অর্থায়নে ঋণের বদলে বন্ড কেনার বিভিন্ন নিয়মকানুন প্রকাশ করা হয়।

গতকালের প্রজ্ঞাপনে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদিত প্রজেক্ট স্পেসিফিক এসপিভি বাদে অন্যান্য তালিকাবহির্ভূত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের বিধিনিষেধগুলো আরোপ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৬ ক (১) ধারা অনুসারে, তফসিলি ব্যাংক কোনো তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির মোট শেয়ারের ১০ শতাংশের বেশি কিনতে পারবে না। এছাড়া এমন সব শেয়ারে ব্যাংকের মোট ক্রয়মূল্য তার নিজ ইকুইটি তথা পরিশোধিত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও অবণ্টিত মুনাফার মোট অংকের ৫ শতাংশের বেশি হবে না।

শেয়ার কেনার মাধ্যমে তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির ওপর ব্যাংকের পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে—ধরে নিয়ে প্রচলিত হিসাব রীতি অনুসারে ব্যাংককে ইকুইটি মেথড অনুসরণ করে আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করতে হবে।

আগ্রাসী দামে প্রাইভেট কোম্পানির শেয়ার ক্রয় ঠেকাতে ক্রয়কালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির এনএভিপিসের চেয়ে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বেশি দাম পরিশোধের সুযোগ দেয়া হয়েছে।

এদিকে প্রেফারেন্স শেয়ারে বিনিয়োগ করতে চাইলে ব্যাংকগুলো শুধু নন-কনভার্টিবল কিউম্যুলেটিভ প্রেফারেন্স শেয়ার কিনতে পারবে। এক্ষেত্রে প্রেফারেন্স শেয়ারের মেয়াদ পাঁচ বছরের বেশি হতে পারবে না এবং সুদ বা নগদ লভ্যাংশের হার সুনির্দিষ্ট হতে হবে। কোনো হিসাব বছরে সে বিনিয়োগ থেকে সুদ বা নগদ লভ্যাংশ না এলে সুদসহ আসল অংকের ২৫ শতাংশ হারে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে ব্যাংককে। পরবর্তী অর্থাৎ দ্বিতীয় বছরে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ এবং তৃতীয় বছরেও সুদ বা নগদ লভ্যাংশ না এলে শতভাগ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে। এমন ক্ষেত্রে প্রেফারেন্স শেয়ারকে ঋণ গণ্য করে ইস্যুয়ার কোম্পানির বিষয়ে সিআইবিতে রিপোর্ট করতে হবে। কোম্পানিটিকে খেলাপি হিসেবে প্রদর্শন করতে বিনিয়োগকারী ব্যাংক ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুসরণ করবে।

এদিকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অনুমোদিত বেমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডে মোট বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ইকুইটির ৫ শতাংশ ছাড়াবে না। একক ফান্ডের ক্ষেত্রে মোট ইউনিটের ১৫ শতাংশের বেশি কিনতে পারবে না কোনো ব্যাংক। মিউচুয়াল ফান্ডের সম্ভাব্য মূল্যহ্রাসজনিত ক্ষতির বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের ২৮ জুন তারিখে অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগের প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।

ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোকে তালিকাবহির্ভূত বিনিয়োগের বিবরণীর (বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদত্ত ছকে) সফট কপি পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগে দাখিল করতে হবে। অবিলম্বে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: