Sahre Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

লোকসানি আজিজ পাইপের দর তিনগুণ বাড়ার রহস্য?


১২ জানুয়ারি ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ০৫:০০  পিএম

শেয়ার বিজনেস24.কম


লোকসানি আজিজ পাইপের দর তিনগুণ বাড়ার রহস্য?

চলতি মূলধনের অভাব, পুঞ্জীভূত লোকসান, ঋণের বোঝা ও দায় পরিশোধে সক্ষমতা না থাকা, পণ্যের বাজার কমে আসা এবং কাঁচামাল সংকটের কারণে কয়েকটি ইউনিটে উপাদন বন্ধ থাকায় ধুঁকছে আজিজ পাইপস। প্রায় আড়াই বছর ধরেই লোকসানে প্রকৌশল খাতের কোম্পানিটি। তবে কোম্পানিটি মন্দাবস্থায় থাকলেও শেয়ারদরে এর ছাপ নেই। দুবছরে ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।

১৯৮৬ সালে তালিকাভুক্ত স্বল্পমূলধনি কোম্পানিটি ২০১৩ সালে সর্বশেষ ছয় লাখ আট হাজার টাকা মুনাফা করেছিল। এরপর থেকেই লোকসান গুনছে আজিজ পাইপস। ২০১৬ সালের জুন শেষ হওয়া সমাপ্ত অর্থবছরের ১৮ মাসে তিন কোটি ৩০ লাখ টাকা লোকসান গুনেছে। এর মধ্য দিয়ে কোম্পানিটির পুঞ্জিভূত লোকসানের পরিমাণ ৪১ কোটি ৮৪ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ওই অর্থবছরে আজিজ পাইপসের শেয়ারপ্রতি লোকসান তিন টাকা ৮২ পয়সা ছিল। লোকসানের কারণে লভ্যাংশ না দিয়ে কয়েক বছর ধরেই ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে কোম্পানিটি।

এদিকে লোকসানে ডুবতে বসলেও শেয়ারদর প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৩০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭১ টাকা ৫০ পয়সায় ওঠানামা করছে। দুবছরে কোম্পানির শেয়ারদর ১৫ টাকা থেকে ৭১ টাকা ৫০ পয়সায় ওঠানামা করে। বুধবার কোম্পানির সর্বশেষ শেয়ারদর ছিল ৬৬ টাকা ২০ পয়সা। এদিকে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২০ টাকা, যা সর্বশেষ কার্যদিবসে ৬৬ টাকা ২০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। দুবছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় তিনগুণ বেড়েছে।

জানতে চাইলে আজিজ পাইপসের সহকারী কোম্পানি সচিব এএইচএম জাকারিয়া বলেন, ‘ব্যাংক ঋণের কারণে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করতে না পারা ও চলতি মূলধন সংকটের কারণে কোম্পানিটির উৎপাদন ক্ষমতার অর্ধেকও ব্যবহার করা যায়নি। সর্বশেষ অর্থবছরে উৎপাদনক্ষমতার মাত্র ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ ব্যবহার করতে পেরেছি। চলতি মূলধন সংকটের কারণেই কোম্পানিটি দুরবস্থার মুখে পড়েছে। আর পুঞ্জিভূত লোকসানের কারণেই বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। তবে ঋণ পরিশোধ ও চলতি মূলধন জটিলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য এরই মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই আমরা লোকসান থেকে বেরিয়ে আসতে পারব।’

তবে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বা কতটুকু ঋণ পরিশোধ হয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্টভাবে কিছু জানাতে রাজি হননি তিনি।

এদিকে কোম্পানিটির কাছে তিনটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৯ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে সুদ হিসেবে পাওনার পরিমাণ প্রায় ২৯ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে কোম্পানিটির ঋণের পরিমাণ ৫৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। অন্যদিকে তাদের মোট সম্পদের মূল্য প্রায় ৩২ কোটি ২৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ সম্পদের তুলনায় দায় ২৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা বেশি।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তালিকাভুক্তির এক দশক পর ১৯৯৬ সালে রাইট শেয়ার ইস্যু করে অর্থ হাতিয়ে নেয় বিনিয়োগকারীদের। সে সময় প্রতিটি রাইট শেয়ারে ৫৫০ টাকা প্রিমিয়াম নেওয়া হয়। রাইট ছেড়ে বাজার থেকে টাকা তুলে নেওয়ার সময় ৫০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। তারপর ২০ বছর ধরে লভ্যাংশ দিচ্ছে না কোম্পানিটি। আজিজ পাইপসের দুই দশকের লভ্যাংশ সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো তথ্যও নেই।

সবশেষ আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৬ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরের ১৮ মাসে কোম্পানিটির আয় ৭৩ লাখ ৫৬ হাজার ১৮ টাকা বেড়ে ১২ কোটি ৫৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আয় বাড়ায় ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা পরিচালন মুনাফাও করেছিল কোম্পানিটি। কিন্তু প্রাক-উৎপাদন খরচ সমন্বয়ের কারণে লোকসানে পড়েছে কোম্পানিটি। ওই অর্থবছরে এক কোটি ৫৯ লাখ টাকা কর-পরবর্তী লোকসান হয়েছে। যে কারণে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান এক টাকা ৬০ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি দায় ৫৯ টাকা ২০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। তবে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে পাঁচ কোটি ৬১ লাখ টাকা আয় ও প্রায় ছয় লাখ টাকা পরিচালন মুনাফা দেখিয়েছে আজিজ পাইপস।

স্বল্প মূলধনি কোম্পানিটির মোট ৪৮ লাখ ৫০ হাজার শেয়ারের ৩৬ দশমিক ৭৬ শতাংশই উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর হাতে পাঁচ দশমিক ৫১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে ৫৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

 

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: