Nahee Aluminum
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

যে কারণে দরপতনের বাজারেও ছোট কোম্পানির দাপট


১৬ মে ২০১৭ মঙ্গলবার, ০৪:১৬  পিএম

শেয়ার বিজনেস24.কম


যে কারণে দরপতনের বাজারেও ছোট কোম্পানির দাপট

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সোমবার মূল্যবৃদ্ধিতে দাপুটে অবস্থানে ছিল স্বল্প মূলধনি কোম্পানি। দরপতনের দিনে কম পুঁজির কোম্পানিগুলোরই সর্বাধিক মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে।

ঢাকার বাজারে সোমবার মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষে ছিল পূরবী জেনারেল ইনস্যুরেন্স। প্রায় ৪৫ কোটি টাকার মূলধনের এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের দাম এদিন দেড় টাকা বা প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৯০ পয়সায়।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসের মধ্যে ওই দিনই কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।

ডিএসইতে সোমবার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল পাট খাতের কোম্পানি সোনালী আঁশ। এদিন কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম প্রায় ২০ টাকা বা ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৮ টাকায়। প্রায় পৌনে ৩ কোটি টাকার মূলধনি এ কোম্পানির মোট শেয়ার ২৭ লাখ ১২ হাজার। এর মধ্যে গতকাল মাত্র ২ লাখ ১৭ হাজার শেয়ারের হাতবদলের মাধ্যমে ২০ টাকা দাম বাড়ে।

ঢাকার বাজারে মূল্যবৃদ্ধিতে সোমবার তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে ছিল যথাক্রমে নর্দান জুট, এমবি ফার্মা ও রেনউইক জগেশ্বর। এদিন নর্দান জুটের প্রতিটি শেয়ারের দাম প্রায় ১৯ টাকা, এমবি ফার্মার প্রতিটি শেয়ারের দাম সাড়ে ২৪ টাকা এবং রেনউইক জগেশ্বরের প্রতিটির দাম ২৮ টাকা ৪০ পয়সা বেড়েছে। কোম্পানি তিনটির মধ্যে নর্দান জুট প্রায় পৌনে ২ কোটি, এমবি ফার্মা ২ কোটি ৪০ লাখ ও রেনউইক জগেশ্বর ২ কোটি টাকার মূলধনের কোম্পানি।

বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্বল্প মূলধনি কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজি ঘটানো সহজ। কারণ সামান্য কিছু শেয়ার লেনদেন করেই এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ানো সম্ভব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ হেলাল বলেন, বাজার যখন পতনের ধারায় থাকে এবং লেনদেন কমে যায়, তখন স্বল্প মূলধনি কোম্পানির শেয়ারকেই দাম বাড়ানোর জন্য বেছে নেওয়া হয়। কারণ খুব অল্প পরিমাণ শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে এসব কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ানো সম্ভব।

মোহাম্মদ হেলাল আরও বলেন, ভালো ও বড় মূলধনের কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়াতে হলে ওই কোম্পানির অনেক শেয়ার লেনদেন করতে হয়। কিন্তু পতনের ধারায় থাকা বাজারে অধিক শেয়ার কিনতে গেলেই উল্টো দিক থেকে বিক্রির চাপ তৈরি হয়ে যায়। এ কারণে কারসাজিকারকেরা সাধারণত পতনশীল বাজারে স্বল্প মূলধনি কোম্পানিকেই কারসাজির জন্য বেছে নিয়ে থাকে। তা না হলে বাজারের বর্তমান বাস্তবতায় এসব শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিক কোনো কারণ নেই।

এদিকে ঢাকার বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সোমবার ৩২ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে ৫ হাজার ৪২৮ পয়েন্টে। দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৩৮ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ১২ কোটি টাকা কম। এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে জায়গা করে নেয় বস্ত্র খাতের কোম্পানি প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল। ঢাকার বাজারে এককভাবে কোম্পানিটির সোয়া ২০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। আর দিন শেষে প্রতিটি শেয়ারের দাম ১ টাকা ৩০ পয়সা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ টাকায়।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচকটি এদিন প্রায় ৮৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৮২১ পয়েন্টে। দিন শেষে সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৯ কোটি টাকা, যা আগের দিনের প্রায় সমপরিমাণ।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: