Runner Automobiles
Runner Automobiles
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

যার প্রভাবে পুঁজিবাজারে দরপতন


০৯ মার্চ ২০১৮ শুক্রবার, ১১:১৭  এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক


যার প্রভাবে পুঁজিবাজারে দরপতন

চলমান অস্থিরতার প্রভাবই পড়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে। গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে মাত্র ২৭৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা আগের ২০ মাসের সর্বনিম্ন। এর তুলনায় সর্বশেষ কম লেনদেনটি হয়েছিল ২০১৬ সালের ১১ জুলাই। ওইদিন ২৭২ কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল।

লেনদেন কমার কারণ বিষয়ে বাজার সংশ্নিষ্টরা জানান, গত কয়েক মাস ধরে প্রায় টানা দরপতন হচ্ছে। দরপতন দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে গুজব আছে। এমনিতে সাম্প্রতিক দরপতনে অনেকের বিনিয়োগ আটকে গেছে। এ অবস্থায় নতুন করে বিনিয়োগ করার সাহস করছেন না। পরিস্থিতি এমনই দাঁড়িয়েছে, ইতিবাচক মূল্য সংবেদনশীল তথ্যও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে না। উল্টো এমন খবরে সংশ্নিষ্ট শেয়ারের দর কমার ঘটনাও ঘটছে।

যেমন গত বুধবার তালিকাভুক্ত ইউনিক হোটেল কোম্পানি উত্তরায় চার তারকা মানের নতুন একটি আবাসিক হোটেল উদ্বোধনের ঘোষণার পরও শেয়ারটির দর কমেছে। গতকাল ডিএসইতে শেয়ারটির দর ২০ পয়সা কমে সর্বশেষ ৬০ টাকা ২০ পয়সা দরে কেনাবেচা হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল জাহিন স্পিনিংয়ের রাইট শেয়ার অনুমোদনের খবর এসেছে। তার পরও শেয়ারটির দর সাড়ে ৩ শতাংশ কমেছে।

শুধু এ কোম্পানিই নয়, মৌল ভিত্তির বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে। দিনের লেনদেন শেষে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ডিএসইতে ১২০ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে। বিপরীতে ১৬২টি দর হারিয়েছে ও অপরিবর্তিত থেকেছে ৫২টির দর। তবে বৃহৎ মূলধনী কিছু কোম্পানির শেয়ারদরে ভর করে এ বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫৮২৭ পয়েন্টে উঠেছে। যদিও লেনদেন শেষ হওয়ার সোয়া ঘণ্টা আগে সূচকটি আগের দিনের তুলনায় ২৬ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৭৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করছিল।

শেষ পর্যন্ত সূচকটিকে ইতিবাচক ধারায় আনতে বেশি অবদান ছিল ব্যাংক খাতের। এ খাতের ৩০ কোম্পানির মধ্যে ১৬টির দর বেড়েছে। কমেছে ৬টির। সার্বিক হিসাবে সূচকে খাতটির একক অবদান সাড়ে ১০ পয়েন্ট। যেখানে ব্র্যাক ব্যাংকের একক অবদান ৩ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট। শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ৯০ পয়সা বৃদ্ধি পাওয়ায় সূচকে ইতিবাচক অবদান রেখেছে ব্যাংকটি। এ ছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংক দেড় পয়েন্ট, আল-আরাফাহ ১ পয়েন্ট, মার্কেন্টাইল ব্যাংক শূন্য দশমিক ৮৫ পয়েন্ট যোগ করেছে।

বিপরীতে শেয়ারপ্রতি সাড়ে ৭ টাকা দর হারানোয় সূচকে এসিআই লিমিটেডের অবদান কমেছে শূন্য দশমিক ৮২ পয়েন্ট। এ ছাড়া শেয়ারদর কমার কারণে সূচক হ্রাসে যেসব কোম্পানির ভূমিকা ছিল, সেদিক বিবেচনায় এরপরের অবস্থানে ছিল পূবালী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা, লিগ্যাটি ফুটওয়্যার ও সিটি ব্যাংক।

খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ব্যাংক খাতের বাইরে গতকাল শুধু সেবা ও নির্মাণ এবং কাগজ ও ছাপাখানা খাতের ছয় কোম্পানির মধ্যে চারটির দর বেড়েছে। বিপরীতে বীমা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, প্রকৌশল, বস্ত্র, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, তথ্য ও প্রযুক্তি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতের বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমেছে। অন্যসব খাতে ছিল মিশ্র ধারা।

একক কোম্পানি হিসেবে রুগ্‌ণ কোম্পানি ইমাম বাটনের শেয়ারদর সর্বাধিক পৌনে ৬ শতাংশ বেড়ে সর্বশেষ ৩৮ টাকা ৭০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছে। এ ছাড়া বন্ধ কোম্পানি মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক্কের শেয়ারদর সাড়ে ৫ শতাংশ বেড়েছে। তাকাফুল ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্টের শেয়ারদর ৪ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিপরীতে সাড়ে ৪ শতাংশ দর হারিয়ে দরপতনের শীর্ষে ছিল রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: