Sahre Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

মুদ্রানীতিতে অলস টাকা বিনিয়োগের গুরুত্বারোপ


২৮ জানুয়ারি ২০১৭ শনিবার, ০৯:২৮  পিএম

শেয়ার বিজনেস24.কম


মুদ্রানীতিতে অলস টাকা বিনিয়োগের গুরুত্বারোপ

বিনিয়োগ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং ব্যাংকের অলস টাকাসহ বিভিন্ন খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের শেষার্ধের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন গভর্নর ফজলে কবির।

২৯ জানুয়ারি রোববার বেলা ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ে এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওই সময় গভর্নর মুদ্রানীতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অলস টাকাসহ বিভিন্ন খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নতুন মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা হবে।

তিনি জানিয়েছেন, সতর্কতা অবলম্বন করে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতির মতোই ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মেয়াদের জন্য (অর্থবছরের শেষার্ধ) মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুসারে দেশের ব্যাংক খাতে এখন অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। অর্থাৎ এই পরিমাণ টাকা ব্যাংকে এখন অলস পড়ে আছে।

এছাড়া দেশে বিনিয়োগও কমেছে। পাঁচ বছর আগেও দেশে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি ছিল ২৫ শতাংশের ওপরে। অথচ চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, যেকোনো দেশের অর্থনীতির গতি বাড়লে বা পরিধি বাড়লে ব্যাংকের টাকা বিনিয়োগে যাওয়ার কথা। বাংলাদেশে অর্থনীতির পরিধি বাড়ছে কিন্তু শিল্প-উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিনিয়োগের আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে না।

এ অবস্থায় নতুন মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগ উৎসাহে নতুন কোনো ঘোষণা বা নির্দেশনা আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কয়েক দিন আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, দেশের মোট অর্থনীতির আকার বেড়েছে তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশে এক ধরনের স্থবিরতা এখনও রয়েছে। যে কারণে ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অলস অর্থ জমা হয়ে আছে।

তার মতে, বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহের কারণ মূলত অবকাঠামো ও গ্যাসের সমস্যা। এছাড়া বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত মনে হলেও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এ কারণে বিনিয়োগ বাড়ছে না।

ব্যাংকাররাও বলছেন সেই কথাই, একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, বিদেশি ঋণ উদারীকরণ নীতি আর দেশীয় ব্যাংকগুলোতে বিনিয়োগ চাহিদা না থাকায় বাড়ছে অলস অর্থের পরিমাণ।

ন্যাশনাল ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমার কাছে এটা বিস্ময়ের। দেশে এখন বিনিয়োগের স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনও বেড়েছে।

তবে এর সাথে তাল মিলিয়ে ঋণ চাহিদা বাড়েনি বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, গত অর্থবছরে ব্যাংকগুলো তাদের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬৯ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে পেরেছে।


শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: