VFS Thread IPO
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

ব্যাংকখাতের ১৬% বাজার মূলধন গায়েব


১২ মার্চ ২০১৮ সোমবার, ০২:৪৪  পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক


ব্যাংকখাতের ১৬% বাজার মূলধন গায়েব

২০১৭ সালে পুঁজিবাজারে উল্লম্ফনের নেপথ্যে ছিল ব্যাংকখাত। সে সময় এ খাতটির ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ দর বাড়ে। ব্যাংকের লেনদেনযোগ্য (ফ্রি-ফ্লোট) শেয়ার বেশি থাকায় সূচক বাড়াতে অগ্রনী ভূমিকা রাখে। তবে চলতি বছর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। গত বছর দরবৃদ্ধির দরবৃদ্ধির শীর্ষে থাকা খাতগুলো এবার দরহ্রাসের শীর্ষ তালিকায় রয়েছে। আর দরহ্রাসের শীর্ষে রয়েছে ব্যাংক খাত। চলতি বছরের গতকাল পর্যন্ত এ খাতটি ১৬ শতাংশের বেশি বাজার মূলধন হারিয়েছে, যা বাজারের পতনে কার্যকরি ভূমিকা রাখছে।

২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকখাতের বাজার মূলধন ছিল ৭৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এরপর টানা দরপতনে ৬২ হাজার ৪০০ কোটি টাকায়। এ হিসেবে চলতি বছরের ১১ মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক খাত ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকা বা ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ বাজার মূলধন খূইয়েছে। যদিও এ খাতটির হিসাব বছর শেষে লভ্যাংশ ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। এ সময় সাধারনত শেয়ার দর বাড়ার কথা। গত বছরের এ সময়ে এ খাতটির শেয়ার দরে ইতিবাচক ধারা বজায় ছিল। তবে চলতি বছর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে।

এদিকে চলতি বছরের শুরু থেকে পুঁজিবাজারে যে অস্থিরতা চলছে, তাতে গতকাল পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচকটি সাড়ে ৭ শতাংশ হারিয়েছে। গতকাল ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচকটি ৫৪ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৭৭৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সূচক পতনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে ব্যাংক, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক খাত ও সিমেন্ট খাতের শেয়ারের দরপতন। চলতি বছর এ তিন খাতের শেয়ার দর টানা কমতে দেখা গেছে। লেনদেন নেমে এসেছে ২৩৬ কোটি টাকায়, যা ২০১৬ সালের ১০ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন।

মূলত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তারল্য সঙ্কট, সুদের হার বৃদ্ধি ও ডিএসইর কৌশলগত শেয়ার নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থান পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ না থাকায় বাজারে মূল্যসূচকের পতন ত্বরান্বিত হচ্ছে। গত কয়েকদিন রাস্ট্রায়ত্ব বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি শেয়ার ক্রয়ে প্রধান ভূমিকা রাখলেও প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতাও এখন কমে গেছে। ফলে বাজারে ক্রেতাসঙ্কটের প্রভাব পড়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল জীবন বীমা, খাদ্য ও ট্যানারী ছাড়া অবশিস্ট সবখাতের বাজার মূলধন কমেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি কাগজ, তথ্য প্রযুক্তি ও ভ্রমন খাতের শেয়ার দর। এছাড়া ব্যাংক, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক খাত, সেবা, বস্ত্র, প্রকৌশল ও সিরামিক খাতের বাজার মূলধন এক শতাংশের বেশি কমেছে।

চলতি বছর ব্যাংক খাতের পাশাপাশি ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সিমেন্ট খাত সবচেয়ে বেশি বাজার মূলধন হারিয়েছে। বিশ্লেষনে দেখা যায়, ২০১৭ সাল থেকেই টানা দরপতনের ধারায় রয়েছে সিমেন্ট খাত। এ খাতের অধিকাংশ কোম্পানির মুনাফা কমে যাওয়ায় গত বছর প্রায় ১০ শতাংশ দর হারায়। দরহ্রাসের ধারা চলতি বছরও আরো বেগবান হয়েছে। মাত্র আড়াই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে এ খাতটি ১১ দশমিক ৬ শতাংশ দর হারিয়েছে। এতে ২০১৭ সালের পর থেকে এ খাতটি প্রায় এক চতুর্থাংশ বাজার মূলধন হারিয়েছে। ২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারি সিমেন্ট খাতের বাজার মূলধন ছিল ১৬ হাজার ৯০ কোটি টাকা, যা গতকাল ১২ হাজার ১৩০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক খাতও চলতি বছর প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বাজার মূলধন হারিয়েছে। ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর এ খাতটির বাজার মূলধন ছিল ২৪ হাজার ৪২০ কোটি টাকা, যা গতকাল নেমে এসেছে ২০ হাজার ৮৮০ কোটি টাকায়। এ হিসেবে চলতি বছর এ খাতটি প্রায় ১৪ শতাংশ দর হারিয়েছে। যদিও গত বছর এ খাতটির বাজার মূলধন ৫২ শতাংশ বেড়েছিল। বাজার সংশ্লিস্টরা বলছেন, মুনাফা তুলে নেয়ার কারণেই এ খাতটি ধারাবাহিক পতনে রয়েছে।

 

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: