Sahre Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

বোনাস দিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রতারণা করছে ১১ কোম্পানি!


১২ জানুয়ারি ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ০৩:২৪  পিএম

শেয়ার বিজনেস24.কম


বোনাস দিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রতারণা করছে ১১ কোম্পানি!

লভ্যাংশের নামে বোনাস শেয়ার দিয়ে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি প্রতারণা করছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১১ কোম্পানি।

আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতের এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, এবি ব্যাংক লিমিটেড, বিডি ফাইন্যান্স, আইএফআইসি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেড।

বিনিয়োগকারী ঠকানো তালিকায় আরো প্রতিষ্ঠান রয়েছে- ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রমোশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (আইপিডিসি) এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড।

বিনিয়োগকারী ঠকানো সম্পর্কে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, বছর শেষে মুনাফার ওপর লভ্যাংশ ঘোষণা করে কোম্পানি। তবে কোম্পানি কী পরিমাণ দেবে, এটার নিয়ম নেই। কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যবসা মন্দার কারণে বোনাস লভ্যাংশ দিচ্ছে, কেউ ভালো মুনাফা করেও বোনাস দিচ্ছে। এটা ঠিক নয়।

যেসব কোম্পানি ভালো মুনাফার পরও বোনাস দিচ্ছে তারা বিনিয়োগকারীদের ঠকাচ্ছে। লভ্যাংশ প্রদানের বিষয়ে নিয়মনীতি থাকলে ভলো হতো।

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড : নিয়মিতই মুনাফা করছে। ৫ বছরে ব্যাংকটি মুনাফা করে ১ হাজার ৯২০ কোটি টাকা এবং রিজার্ভের পরিমাণ এক হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। এরপরও ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড ১৫ বছর ধরে বোনাস লভ্যাংশ দিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকটি কর্তৃপক্ষ বিনিয়োগকারীদের ঠকানোর প্রক্রিয়ায় শীর্ষে রয়েছে।

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গত নভেম্বর মাসে ৪০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যাংকটি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে মূলধনের প্রয়োজন ও  মূলধন শক্তিশালী করার জন্য বন্ডটি ইস্যু করবে। ব্যাংকটি ব্যাসল-৩ অধীনে বন্ডটি ইস্যু করবে।

অন্যদিকে, এনবিএল ঢাকার মোহাম্মদপুরে ৭৪ হাজার ৯৭০ স্কয়ার ফিটের ৫০টি  ফ্লাট ক্রয়ের ১৭ অক্টোবর ঘোষণা দেয়। ব্যাংকটির ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকার ফ্লাট ক্রয়ের ঘোষণায় অনিয়মের অভিযোগ উঠে। তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কমিশন।

এবি ব্যাংক লিমিটেড : নিয়মিতই মুনাফা করছে ব্যাংকটি। তবুও গ্রাহক ঠকানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ৫ বছরে ৬৩১ কোটি টাকা মুনাফা করলেও এক যুগের বেশি সময় ধরে শুধু নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার ইতিহাস নেই। সব দিয়েছে বোনাস শেয়ার! বিস্ময়কর!

প্রতিষ্ঠানটি সাতবার রাইট শেয়ার ইস্যু করেছে। ব্যাংকটির গত দুই বছরে ব্যাংকটির শেয়ারদর ১৪ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৩১ টাকা ৪০ পয়সা পর্যন্ত ওঠানামা করেছে।

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ গত নভেম্বরে ৪০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে মূলধনের প্রয়োজন ও  মূলধন শক্তিশালী করার জন্য বন্ডটি ইস্যু করবে। ব্যাংকটি ব্যাসল-৩ অধীনে বন্ডটি ইস্যু করবে।

ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন রয়েছে ৩০ কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ১ হাজার ৯৭৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (বিডি ফাইন্যান্স) : ২০০৭ সালে তালিকাভুক্ত হয়ে এখন পর্যন্ত শুধু বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। তবে ২০১৪ সালে বোনাসের সঙ্গে মাত্র ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল।

এছাড়া সাত বছর ১০ শতাংশ হারে বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। যদিও কোম্পানির রিজার্ভের পরিমাণ ৫২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। মুনাফা প্রতিবছরই বাড়ছে। ২০১৩ সালে রাইট শেয়ারও ইস্যু করেছে কোম্পানিটি।

আইএফআইসি ব্যাংক : বিনিয়োগকারীদের পকেটকাটার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিশেষ অশুভ প্রক্রিয়ায়’ রাইট শেয়ারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের সব সম্ভাবনা তৈরি করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির রিজার্ভের পরিমাণ ৬৭৩ কোটি টাকা। টানা ১৩ বছর ধরে বোনাস লভ্যাংশ দিয়ে যাচ্ছে!

আইএফআইসি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের মোট শেয়ার রয়েছে ৮.৪৮ শতাংশ, সরকারের ৩২.৭৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ২১.৪৪ শতাংশ, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৩৬.৯০ শতাংশ এবং বিদেশি উদ্যোক্তাদের রয়েছে .৪৩ শতাংশ শেয়ার।

বিগত দিনে ব্যর্থ হলেও চলতি বছরে আবারো রাইটে আসার চেষ্টা করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। উদ্যোক্তাদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ অনেক কম। সফলতার জন্য উদ্যোক্তাদের ৮.৪৮ শতাংশ এবং সরকারের ৩২.৭৫ শতাংশ মিলে মোট ৪১.২৩ শতাংশ ব্যাংক উদ্যোক্তাদের নিজেদের শেয়ার হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক : গত ৯ মাসে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ১৮ পয়সা। আগের বছর একই সময় এই ইপিএস ছিল ২ টাকা ৬ পয়সা। আয়ের দিকে সফল হলেও বছর শেষে বিনিয়োগকারীদের ঠকাতে ঘোষণা বোনাস!

৪৪৯ কোটি টাকা রিজার্ভ থাকলেও গত ১২ বছর ধরে বোনাস লভ্যাংশ দিচ্ছে ব্যাংকটি।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডকে গত নভেম্বর ৫০০ কোটি টাকার নন-কনভার্টিবল সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বন্ডের প্রতিটি ইউনিটের অভিহিত মূল্য হবে ১ কোটি টাকা। ম্যান্ডেটেড লিড অ্যারেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে আরএসএ ক্যাপিটাল এবং ট্রাস্টি হিসেবে থাকছে আইডিএলসি ফিন্যান্স লিমিটেড।

প্রিমিয়ার ব্যাংক : ব্যাংকটি ৯ বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। কোন আইন নেই; তাই চলছে গ্রাহক ঠকানো। গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রিমিয়ার ব্যাংকের বোর্ডসভা নন-কনভার্টেবল সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যাংকটি ৩শ কোটি টাকার পরিবর্তে ৫শ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করবে। বর্তমানে ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ ৩৪২ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড (পিবিএসএল) মূলধন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড : নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার ইতিহাস নেই। গত এক যুগেও তা দেয়া হয়নি। ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ ৩৯৩ কোটি টাকা। ব্যাংকের আয় বাড়লেও বিনিয়োগকারী ঠকানো হচ্ছে।

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড ৪০০ কোটি টাকার ৭ বছর মেয়াদী নন কনভারটেবল সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যু করবে। ব্যাংকটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বন্ড ইস্যু করবে। গত বছরের জুনে ডিএসই এই তথ্য জনায়।

রূপালী ব্যাংক লিমিটেড : অব্যবস্থাপনা গিলে খাচ্ছে ব্যাংকটিকে। বদলি নিয়ে সিবিএ নেতাদের ৫ ডিসেম্বর অফিসে হট্টগোল করা হয়। এ নিয়ে মামলা আদালতে চলমান।

একই সঙ্গে রূপালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয়ের ২৩ ডিসেম্বর এক জিএমসহ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে ব্যাংকটির পাঁচ কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন রূপালী ব্যাংকের অফিস সহকারী ও সিবিএ (কালেকটিভ বার্গেনিং এজেন্ট) সাধারণ সম্পাদক মো. কাবিল হোসেন কাজী।

বরখাস্ত হওয়া অন্য সিবিএ নেতাদের মধ্যে রয়েছেন— অফিস সহকারী মো. আরমান মোল্লা, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. আহসান হাবিব ও গাড়িচালক মো. আবুল কালাম আজাদ।

প্রতিষ্ঠানটি ৬ বছর ধরে বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ব্যাংকটি ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫ সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ ৭২৭ কোটি টাকা।

ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড : পাঁচ বছরের মধ্যে তিন বছরই বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড ৬ বছর, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রমোশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (আইপিডিসি) ৯ বছর, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড ৭ বছর বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) উচিত বোনাস ও নগদ লভ্যাংশের বিষয়ে একটা নীতিমালা করে দেয়া। এতে কোনো কোম্পানি তাদের বিনিয়োগকারীকে ঠকাতে পারবে না। বছরের পর বছর বোনাস লভ্যাংশ দিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো মূলধন বাড়াতে পারবে না।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: