Sahre Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

ফেসবুক জানালো সালভিনা দত্তক!


৩০ ডিসেম্বর ২০১৬ শুক্রবার, ১০:৪২  এএম

শেয়ার বিজনেস24.কম


ফেসবুক জানালো সালভিনা দত্তক!

৩১ বছরে এসে সালভিনা মার্টিনেজ পিনটোস জানলেন তিনি বর্তমান বাবা-মায়ের দত্তক মেয়ে। দুই সন্তানের মা সালভিনা এতদিন জানতেনই না তিনি বাবা-মায়ের দত্তক নেওয়া সন্তান। একদিন ফেসবুকে পরিবারের পুরোনো ছবি খুঁজতে গিয়ে জানতে পারেন তাকে দত্তক নেওয়া হয়েছিল। এতদিন বাবা মা বিষয়টি গোপন করেছিলেন।

সালভিনা মার্টিনেজ পিনটোস বসবাস করেন আর্জেনটিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে। অনেক দিন ধরে তিনি ফেসবুকে তাদের পরিবারের পুরোনো ছবি খোঁজাখুঁজি করছিলেন। একদিন হঠাৎ তার মায়ের একটি ছবি তার টাইমলাইনে দেখতে পান। ছবিতে তার মা সমুদ্র তীরে বসে আছেন। ছবির তারিখে দেখা যায় সেটি তার জন্মের প্রায় কয়েক দিন আগে তোলা ছবিটি। অথচ তার মা তখন গর্ভবতী ছিলেন না। অর্থাৎ শারীরিকভাবে তার মা স্বাভাবিক ছিলেন। সন্তান গর্ভের কোনো ছিটাফোঁটা ছিল না শরীরে। তারপরই তিনি নিশ্চিত হন, তিনি তার বাবা মায়ের আসল সন্তান না। জন্মের পর তাকে দত্তক নেওয়া হয়েছিল।

বিষয়টি জানতে পেরে তিনি তার জন্ম নেওয়া হাসপাতালে যোগাযোগ করেন। হাসপাতালের নথিপত্র ঘেটে দেখা যায়, ১৬ বছর বয়সী এক নারী তাকে হাসপাতালে প্রসব করেছিল। তবে হাসপাতালে সেই নারীর বর্তমান কোনো তথ্য নেই। আর কীভাবে তার বর্তমান বাবা-মা তাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসলো, তাও জানতে পারেননি। শুধু এটুকু নিশ্চিত হন যে, তিনি তার বর্তমান বাবা মায়ের দত্তক নেওয়া সন্তান।

ফেসবুক থেকে নিজের জন্ম সম্পর্কে জানতে পেরে আবার ফেসবুকেই প্রকৃত মায়ের খোঁজ শুরু করেন সালভিনা। তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছোটবেলার ছবি সংবলিত একটি পোস্ট দিয়ে প্রকৃত মাকে খুঁজে পেতে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সাহয্য চান। তিনি মনে করেন, তার মাও দেখতে হয়তো তার মত হতে পারে। তাই অনুরোধ করেন, তার মত কোনো নারীকে দেখতে পেলে যেন তাকে খবর দেওয়া হয়। এতে তিনি তার প্রকৃত মাকে খুঁজে পাবেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘হ্যালো, আমি আমার এ পোস্টে দত্তক বাবার কোলে আমার ছোটবেলার ছবি দিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছি। আমি ১৯৮৫ সালের ২৭ মার্চ ট্রিলিউতে জন্মেছিলাম। সম্প্রতি আমি জানতে পারি, আমি আমার বাবা মায়ের দত্তক সন্তান। এখন আমি মারডান প্লাটাতে বাস করছি। আমি শুধু আমার জন্মদাত্রী মায়ের পরিচয় জানতে চাই।’ তাছাড়া আরও অনেক কথা লিখে মাকে খুঁজে পেতে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের সাহায্য চান তিনি।

তবে তা জেনে তার তেমন কিছুই হবে না, কারণ তার বয়স এখন ৩১ বছর। জীবনের বেশির ভাগ সময় তার দত্তক বাবা মায়ের সঙ্গেই কাটিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও প্রকৃত মায়ের পরিচয় জানতে খুবই ইচ্ছা তার। আর কীভাবে জন্মের পর প্রকৃত মায়ের থেকে আলাদা করা হয়েছিল তা নিয়েও তার কৌতুহল।

তিনি বলেন, ‘আমি শুধু জানতে চাই জন্মের সময় আমার কী হয়েছিল। হয়তো ডাক্তাররা আমার মাকে বলেছিল, আমি মারা গেছি। তারপর  তারা আমাকে বর্তমান বাবা মায়ের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল।’

এভাবে অনেক অনুনয় বিনয় করে ফেসবুকে মাকে খোঁজার চেষ্টা করেছেন সালভিনা।


শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:

বিশেষ প্রতিবেদন -এর সর্বশেষ