Nahee Aluminum
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন পেল ডরিন


১৭ মে ২০১৭ বুধবার, ০২:৩৩  পিএম

শেয়ার বিজনেস24.কম


নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন পেল ডরিন

ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেম লিমিটেডকে চাঁদপুরে নতুন ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ১১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি)। চলতি মাসের ১৫ তারিখে বিপিডিবির পক্ষ থেকে ডরিন পাওয়ারকে হেভি ফুয়েল অয়েলভিত্তিক (এইচএফও) ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য লেটার অব ইনটেন্ট (কাজ শুরুর চিঠি) দেওয়া হয়। প্রকল্পের ৬০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে ডরিন পাওয়ারের হাতে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্যানুসারে,  লেটার অব ইনটেন্ট দেয়ার ৩০ দিনের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। তাছাড়া চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পরবর্তী ১৮ মাসের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিপিডিবির সঙ্গে ডরিন পাওয়ারের সম্পাদিত পাওয়ার পার্চেজ এগ্রিমেন্টের (পিপিএ বা বিদ্যুৎ ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তি) মেয়াদ ১৫ বছর। নতুন এই বিদ্যুৎ প্রকল্পে ডরিন পাওয়ার জেনারেশন্স অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের ৬০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। আর বাকি ৪০ শতাংশ শেয়ার ডরিন পাওয়ার হাউজ অ্যান্ড টেকনোলজিস লিমিটেডের নামে।

নতুন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন শুরু হলে ডরিনের বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতা ১৭৭ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ২৯১ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। বর্তমানে টাঙ্গাইল, ফেনী ও নরসিংদীতে ২২ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র্র থেকে মোট ৬৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে ডরিন পাওয়ার। তাছাড়া প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অর্থে বাস্তবায়িত নবাবগঞ্জের ঢাকা সাউদার্ন পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড এবং মানিকগঞ্জের ঢাকা নর্দান পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডের বাণিজ্যিক উৎপাদন যথাক্রমে গত বছরের ১১ জুলাই ও ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র্র থেকে মোট ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। উভয় কেন্দ্র থেকে বছরে ৩১৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকার রেভিনিউ আসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে। আর নতুন অনুমোদন পাওয়া চাঁদপুরের বিদ্যুৎকেন্দ্র্রটি থেকেও প্রায় একই হারে রেভিনিউ আসবে বলে জানিয়েছে কোম্পানি সূত্র।

এর আগে চলতি বছরের ৫ এপ্রিল দেশের সাত জেলায় নতুন সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র্র স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর মধ্যে রংপুরে ১১৩ মেগাওয়াট, ঠাকুরগাঁওয়ে ১১৫ মেগাওয়াট, বগুড়ায় ১১৩ মেগাওয়াট, চাঁদপুরে ১১৫ মেগাওয়াট, নারায়ণগঞ্জে ১০৪ মেগাওয়াট, নোয়াখালীর চৌমুহনীতে ১১৩ মেগাওয়াট ও ফেনীতে ১১৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র্র স্থাপন করার অনুমোদন দেওয়া হয়।

২০১৮ সাল নাগাদ উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়ে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র্র স্থাপনের জন্য গত বছরের শেষের দিকে দরপত্র আহ্বান করে বিপিডিবি। ২০১৫ সালের ডলারের বিপরীতে ৭৮ টাকা ৬৬ পয়সা বিনিময় হার ধরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দর ১০ দশমিক ৪৩ সেন্ট ধার্য করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডলারের বর্তমান বিনিময় হার হিসাব করে দর প্রস্তাব করে দেশী বেশ কয়েকটি কোম্পানি। ছিল বিদেশী কিছু কোম্পানিও। এসব কোম্পানি থেকে বাছাই করে গত নভেম্বরে ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য একটি প্রাথমিক তালিকা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আরেকটি কেন্দ্রের জন্য প্রতিষ্ঠান বাছাই করা হয়। সর্বশেষ ৮ ডিসেম্বর বাকি তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্যও সর্বনিম্ন দরপ্রস্তাবকারীদের বাছাই করা হয়। পুরো তালিকাটিই বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠায় বিপিডিবি। বিদ্যুৎ বিভাগ ও ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর চূড়ান্তভাবে মনোনীত কোম্পানিগুলোকে চিঠি দিয়ে স্থাপনার কাজ শুরুর কথা জানাচ্ছে বিপিডিবি।

চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ডরিন পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৩ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৬ পয়সা। ৩১ মার্চ পুনর্মূল্যায়নসহ এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ৩৪ টাকা ৯ পয়সা, পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া যা ২৬ টাকা ২৬ পয়সা। এদিকে হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই, ২০১৬-মার্চ, ২০১৭) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৫৯ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৩৫ পয়সা।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, নতুন সাবসিডিয়ারি বিদ্যুৎকেন্দ্র্রগুলো উৎপাদনে আসায় তাদের মুনাফা বেড়েছে। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৬ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ ও ২০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে ডরিন পাওয়ার। গেল হিসাব বছরে এর ইপিএস হয় ৬৪ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ২ টাকা ২৫ পয়সা।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের নভেম্বরে ডরিন পাওয়ারকে ১৯ টাকা প্রিমিয়ামসহ ২৯ টাকা বরাদ্দমূল্যে ২ কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে শেয়ারবাজার থেকে ৫৮ কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর পর ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) চাঁদা গ্রহণ করে কোম্পানিটি।

প্রসপেক্টাস অনুসারে, শেয়ারবাজার থেকে সংগৃহীত ৫৮ কোটি টাকায় দুই সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও আইপিও প্রক্রিয়ার ব্যয় নির্বাহ করেছে ডরিন পাওয়ার। আইপিওর ৫৮ কোটি টাকা থেকে ১৯ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়। আর আইপিও প্রক্রিয়ার ব্যয় নির্বাহে যায় ২ কোটি ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা। বাকি টাকা দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবকাঠামো খাতে খরচ হয়।
 
বর্তমানে ডরিন পাওয়ারের পরিশোধিত মূলধন ৯৬ কোটি টাকা, রিজার্ভ ১৪২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৭৫ শতাংশই এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রতিষ্ঠান ৫ দশমিক ৪৫ ও বাকি ১৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: