Sahre Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

এপ্রিলে শেয়ারবাজারে কিছুটা ধীর গতি থাকার কারণ


২০ এপ্রিল ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ১১:৩৪  এএম

শেয়ার বিজনেস24.কম


এপ্রিলে শেয়ারবাজারে কিছুটা ধীর গতি থাকার কারণ

পতন অব্যাহত থাকায় দেশের শেয়ারবাজারের সূচক বুধবার দিন শেষে আরও খানিকটা কমেছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এদিন ১৬ পয়েন্ট কমেছে। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচকটি আগের দিনের চেয়ে কমেছে ৩২ পয়েন্ট।

দুই স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক কমলেও লেনদেনে ছিল ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা। ঢাকার বাজারে লেনদেন কমলেও চট্টগ্রামের বাজারে বেড়েছে।

বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এপ্রিল মাসে বাজারে কিছুটা ধীর গতি থাকে। এ সময়ের মধ্যে অনেক কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা হয়ে যায়। ফলে ওই সব শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে। আবার অনেক কোম্পানির মূল্য সমন্বয় ও বোনাস লভ্যাংশ বাজারে যুক্ত হয়। এতে একদিকে যেমন শেয়ারের দাম কমে, অন্যদিকে শেয়ারের পরিমাণ বেড়ে যায়। সামগ্রিক বাজারের ওপরও এর প্রভাব পড়ে।

ডিএসইর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১৯ এপ্রিল ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৪০ কোটি টাকা। ওই দিন ডিএসইর
প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ছিল প্রায় ৪ হাজার ৩৫৮ পয়েন্টে। ২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৬৩ কোটি টাকা। আর ওই তারিখে ডিএসইএক্সের অবস্থান ছিল ৪ হাজার ৩৭৪ পয়েন্টে।
ঢাকার বাজারে গতকাল দিন শেষে লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্সকে পেছনে ফেলে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি শাহজিবাজার পাওয়ার। এদিন ডিএসইতে এককভাবে কোম্পানিটির প্রায় ৩৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়। দিন শেষে প্রতিটি শেয়ারের দাম সাড়ে ৪ টাকা বা ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫১ টাকা ৭০ পয়সা।

বেশ কিছুদিন ধরে লেনদেনের শীর্ষ পর্যায়ে অবস্থান ধরে রাখা লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স গতকাল দিন শেষে দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে আসে। এদিন ডিএসইতে কোম্পানিটির প্রায় ৩৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়। দিন শেষে প্রতিটি শেয়ারের দাম ১ টাকা ৮০ পয়সা বা প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ টাকা ৬০ পয়সা।

এদিকে, কিছুদিন ধরে লেনদেনে শক্তিশালী অবস্থানের পাশাপাশি একটানা দর বৃদ্ধি ঘটছে তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি খাতের কোম্পানি বিডিকমের। গতকালও কোম্পানিটি ডিএসইতে লেনদেনে চতুর্থ অবস্থানে ছিল। এদিন কোম্পানিটির প্রায় ১৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দিন শেষে প্রতিটি শেয়ারের দাম ৩ টাকা বা প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকায়। ফলে এদিন কোম্পানিটি ডিএসইর দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল।

ডিএসইর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, গত আট কার্যদিবসে বিডিকমের প্রতিটি শেয়ারের দাম ৮ টাকা বেড়েছে। গত ৯ এপ্রিল দিন শেষে ঢাকার বাজারে বিডিকমের প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ২৫ টাকা। আট দিনের একটানা দর বৃদ্ধির ফলে গতকাল তা বেড়ে হয়েছে ৩৩ টাকা।

কোম্পানির একটানা এ দর বৃদ্ধিকে অস্বাভাবিকই মনে করছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এ কারণে এ দর বৃদ্ধির পেছনে অপ্রকাশিত কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে কি না তা জানতে চেয়ে কোম্পানির কাছে চিঠি দেয় ডিএসই কর্তৃপক্ষ। ওই চিঠির জবাবে গতকাল কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ার মতো কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য তাদের হাতে নেই। অর্থাৎ কোম্পানিটির শেয়ারের একটানা দর বৃদ্ধির মতো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য কোম্পানির জানা নেই। সেই হিসাবে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য ছাড়াই একটানা বেড়ে চলেছে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম।

ঢাকার বাজারে বুধবার দিন শেষে ডিএসইএক্স কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৫৫৫ পয়েন্টে। এদিন ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬৮৪ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ২২ কোটি টাকা কম। চট্টগ্রামের বাজারে গতকাল দিন শেষে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৩ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৮ কোটি টাকা বেশি।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: