Nahee Aluminum
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

উৎপাদনে নেই ৯ কোম্পানি : ভেবে চিন্তে বিনিয়োগের পরামর্শ


২৪ ডিসেম্বর ২০১৬ শনিবার, ০২:৪৯  পিএম

শেয়ার বিজনেস24.কম


উৎপাদনে নেই ৯ কোম্পানি : ভেবে চিন্তে বিনিয়োগের পরামর্শ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় কোম্পানি বর্তমানে কোনো ব্যবসায় নেই। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে এসব কোম্পানির উৎপাদন। এরপরও এর বেশিরভাগ কোম্পানিই দর বৃদ্ধির দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে। এসব কোম্পানির শেয়ারে ভেবে চিন্তে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, উৎপাদনে না থাকা কোম্পানিগুলো হচ্ছে সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেড, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, বিচ হ্যাচারি লিমিটেড, এমারেল্ড অয়েল, কে অ্যান্ড কিউ (বাংলাদেশ) লিমিটেড, মডার্ন ডায়িং অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টিং, রহিমা ফুড করপোরেশন, নর্দান জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ ও বিডি অটোকারস লিমিটেড। এছাড়া উৎপাদন পুরোপুরি চালু নেই ফাইন ফুড ও ফু-ওয়াং সিরামিকসের। তবে এমারেল্ড অয়েল ডিএসইকে উৎপাদন চালুর খবর জানালেও এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি বলে জানা গেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এপ্রিল থেকে বিচ হ্যাচারির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ২৫ এপ্রিল এ বিষয়ে ডিএসইর ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ করা হয়। আর এ অবস্থা চলতি বছরজুড়েই ছিল।

এ প্রসঙ্গে বিচ হ্যাচারির কোম্পানি সচিব নুরুল ইসলাম বলেন, রিজার্ভ ট্যাংকার বন্ধ থাকার কারণে বর্তমানে আমাদের কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এ বছর আর চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সাধারণত জানুয়ারি-জুন আমাদের উৎপাদন মৌসুম। আগামী বছরের শুরুতে আবার কারখানা চালু করা হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার মহেশখালীপাড়া এলাকায় ৯ দশমিক ২ একর জমির ওপর কোম্পানির হ্যাচারি। কোম্পানিটি চিংড়ির পোনা উৎপাদন ও বিপণন করে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, কিছুদিন আগেও এ শেয়ারের দর ছিল ৯ টাকা ৭০ পয়সা। উৎপাদন না থাকায় বর্তমানে এর দর আট টাকায় নেমে এসেছে। সম্প্রতি এ শেয়ার লেনদেন হচ্ছে আট টাকা থেকে ৯ টাকার মধ্যে।

এদিকে প্রায় এক বছর ধরে উৎপাদনে নেই তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। সম্প্রতি কোম্পানিটি প্লেসমেন্ট ও বন্ড ইস্যু করে ৬২৪ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন পেয়েছে। এ অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা সম্প্রসারণ ও ঋণ পরিশোধ করবে। প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত দরের প্লেসমেন্ট শেয়ার ইস্যু করে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে কোম্পানিটি। ৯ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ইউনাইটেড এয়ারের সব ধরনের ফ্লাইট।

এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীরা বলেন, এ কোম্পানিটির উদ্দেশ্য ভালো নয়। যে কারণে তারা প্রায় ৭৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেয়ার বিনিয়োগকারীদের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। বাকি শেয়ার প্রায় ১৮ শতাংশ রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে। নিজেরা রেখেছে মাত্র ৫ দশমিক ২ শতাংশ শেয়ার। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের শেয়ার অভিহিত দরের নিচে রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন তাজবিরুল আহমেদ বলেন, কোম্পানি কোনো বিষয়ে নিয়ে ফোনে কথা বলতে চায় না। বিএসইসি থেকেও এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে নিষেধ রয়েছে। গত ৫ মার্চ থেকে ফ্লাইট বন্ধ থাকা এ প্রতিষ্ঠানে শেয়ারের দর পাঁচ টাকার মধ্যে বেচাকেনা হচ্ছে। কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে আসে ২০১০ সালে।

একইভাবে বস্ত্র খাতের মডার্ন ডায়িংয়ের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে দুই বছরের বেশি। বর্তমানে কারখানা ভাড়া দিয়ে চলছে এ কোম্পানিটি। অন্য কোম্পানিগুলোর মতো এই শেয়ার নিয়েও ভোগান্তি রয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। দুই বছর আগে এ প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ৩১৯ টাকায় লেনদেন হলেও এখন এ শেয়ার বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায়। এ তালিকায় থাকা
অন্য কোম্পানি কে অ্যান্ড কিউ দেউলিয়া হওয়ার পথে। কয়েক বছর ধরে উৎপাদনে না থাকা এ কোম্পানিটির বর্তমানে যন্ত্রপাতি বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে।

যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ইফতেখার উদ্দীন কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে ঠিক কী কারণে কোম্পানির যন্ত্রপাতি বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে, এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে চলতি মূলধনের সংকটের কারণে ২০১৩ সাল থেকে উৎপাদন বন্ধ রখেছে পুঁজিবাজারের খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি রহিমা ফুড করপোরেশন। কিন্তু ব্যাংকদেনা পরিশোধ করতে না পারায় অবশেষে কোম্পানিটির মালিকানায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে রহিমা ফুড করপোরেশনের কারখানা অধিগ্রহণে প্রতিযোগিতায় নেমেছে সিটি গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, নিটল টাটা, প্রাণ আরএফএল, মোস্তফা গ্রুপপসহ অনেক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু উৎপাদনে না থাকলেও এ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। দেড় বছর আগে এর প্রতিটি শেয়ার ১৯ টাকা ২০ পয়সায় লেননেদন হলেও এখন প্রতিটি শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে ৯৫ টাকা থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।

এ বছরের প্রথম দিকে এমারেল্ড অয়েলের ইন্ডাস্ট্রিজের মিলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অর্থ আত্মসাতের দায়ে একাধিক উদ্যোক্তার নামে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা ও ব্যাংকের কাছে বড় দেনার কারণে কোনো ব্যাংকের কাছ থেকে চলতি মূলধনও পাচ্ছে না খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি। কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, সব সমস্যা কাটিয়ে দ্রুতই উৎপাদন শুরু করতে পারবে তারা।

জানা গেছে, বর্ষায় কাঁচামাল সংকটে তাদের উৎপাদন সাময়িক বন্ধ থাকে।

তবে কারখানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুর দিকেই এমারেল্ড অয়েলের রাইস ব্রান অয়েল মিলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, যা এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি। টেকনিশিয়ানসহ অনেক কর্মী এরই মধ্যে চলে গেছেন।

এমারেল্ড অয়েলের মহাব্যবস্থাপক আহসানুল হক তুষার বলেন, উৎপাদন শুরু করতে যে অর্থ প্রয়োজন, এ মুহূর্তে আমাদের হাতে তা নেই। তবে ব্যাংক এশিয়া ও মাইডাস ফিন্যান্সের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। সেখানে কোম্পানির কিছু ক্রেডিটও রয়েছে। সব মিলিয়ে আমাদের প্রত্যাশা, শিগগিরই আমরা উৎপাদন শুরু করতে পারব।

এদিকে ২০১৪ সাল থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে নর্দার্ন জুট ও মেঘনা পেইটি’র উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এ দুই কোম্পানির মধ্যে মেঘনা পেইটি’র শেয়ারের দরের অবস্থা করুণ। বর্তমানে এর প্রতিটি শেয়ার পাঁচ টাকা থেকে সাড়ে পাঁচ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। অন্য কোম্পানি নর্দার্ন জুটের প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হচ্ছে ২২১ টাকায়। অন্যদিকে কারসাজির দায়ের সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারির গ্যাসের উপজাত বা কনডেনসেট সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিয়ম ভেঙে পরিশোধন ছাড়াই গ্যাসের উপজাত পাম্প মালিকদের যোগসাজশে বাজারে বিক্রি করেছে। সিভিও পেট্রোর পেট্রোবাংলার কাছ থেকে ৪৪ টাকায় কনডেনসেট ক্রয় করে তা কোনো রকম পরিশোধন ছাড়াই ভেজাল আকারে পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল বলে পেট্রল পাম্পের কাছে ৭০-৭২ টাকা দরে বিক্রি করে দিয়েছে। ফলে নিম্নমুখী রয়েছে এর শেয়ারের দর।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলেন, কোম্পানির এ অবস্থার জন্য শুধু কোম্পানিই দায়ী নয়। কোম্পানিগুলো বাজারে আনার ক্ষেত্রে যারা জড়িত ছিল তারা সবাই দায়ী। এদের কেউই দায়ভার এড়াতে পারেন না। এ প্রসঙ্গে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুখ আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, দুর্বল কোম্পানি বাজারে এলে একসময় তারা বিনিয়োগকারীদের কিছু দিতে পারে না। সেজন্য কোম্পানির অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএসইসিকে আরো বেশি সতর্ক হতে হবে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বলেন, শেয়ারহোল্ডারদের সব সময় ভেবেচিন্তে বিনিয়োগ করতে হবে। কোম্পানি যখন ভালো মুনাফা করে তখন কেউ অভিযোগ করে না। কিন্তু কোম্পানি যখন লোকসানে চলে যায়, তখনই সবাই কথা বলা শুরু করে। একটি কোম্পানি যখন বাজারে আসে তখন কেউ বলতে পারে না ভবিষ্যতে কী হবে।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: