ML Dyeing IPO
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

ঈদ ঘিরে লাগামহীন মসলার বাজার


২৬ আগস্ট ২০১৭ শনিবার, ০১:১৬  পিএম

শেয়ার বিজনেস24.কম


ঈদ ঘিরে লাগামহীন মসলার বাজার

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে বন্দরনগরীসহ সারাদেশে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, জিরা, এলাচি, দারুচিনি, গোলমরিচ, লবঙ্গসহ মসলাজাতীয় পণ্যের দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। পাইকারি বাজারে পর্যাপ্ত মসলাজাতীয় পণ্যের মজুদ থাকলেও চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও বেড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সারা দেশে চার শতাধিক ব্যবসায়ী মসলা আমদানি করলেও ৭০ শতাংশ মসলা এনেছেন মাত্র ৭২ ব্যবসায়ী। এখন তাদের ইচ্ছায় বাড়ছে মসলার দাম।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২২ লাখ টন। উৎপাদন হয় ১৮ লাখ টন। আর ঘাটতি চার লাখ টন। এ ঘাটতি পূরণে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১০ লাখ ৪১ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৪৭ শতাংশ বেশি। সর্বশেষ গত জুলাই মাসে আমদানি হয়েছে এক লাখ তিন হাজার টন পেঁয়াজ, যা আগের মাসের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বেশি।

একইভাবে দেশে বর্তমানে পাঁচ লাখ টন রসুনের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে দেশেই উৎপন্ন হয় তিন লাখ ৯২ হাজার মেট্রিক টন। আর প্রতিবছর আমদনি করা হয় প্রায় ৮৩ হাজার মেট্রিক টন রসুন। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে ৪২৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার ২৯ হাজার ৩৫৯ টন রসুন আমদানি করেছেন ৯৮ ব্যবসায়ী। এর মধ্যে রসুনের প্রায় অর্ধেকই এনেছেন মাত্র ১৫ ব্যবসায়ী। সর্বাধিক এক হাজার ৯২৪ টন রসুন আমদানি করেছে চট্টগ্রামের রুমি এন্টারপ্রাইজ।

মসলা পণ্য আদার চাহিদা বার্ষিক তিন লাখ টন। আদা উৎপাদন হয় দুই লাখ ১৫ হাজার টন। আর ঘাটতি থাকে ৮৫ হাজার টন। সর্বশেষ অর্থবছরে ১৮০ ব্যবসায়ী ৪১৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকার ৬৯ হাজার ৯৬১ টন আদা আমদানি করলেও শীর্ষ আমদানিকারকের সংখ্যা মাত্র ১১ জন। তার মধ্যে সর্বোচ্চ তিন হাজার ৫৬০ টন আমদানি করেছে চট্টগ্রামের ফাহাদ ট্রেডিং। দেশে এলাচের চাহিদা প্রায় পাঁচ হাজার টন। সর্বশেষ অর্থবছরে দেশে ১৬৫ কোটি টাকার তিন হাজার ১৩৬ টন এলাচ এনেছে ৪৩ ব্যবসায়ী। সর্বোচ্চ ৩৮২ টন এলাচ এনেছে চট্টগ্রামের আবু মো. অ্যান্ড কোম্পানি।

একইভাবে গত অর্থবছরে ৪৭ ব্যবসায়ী এনেছেন ৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার এক হাজার ৫৫৯ টন গোলমরিচ। এর মধ্যে ১০ ব্যবসায়ী এনেছেন ৭০ শতাংশ গোলমরিচ। সর্বোচ্চ ১৯৩ টন গোলমরিচ এনেছে চট্টগ্রামের ফরচুন ইন্টারন্যাশনাল।

এদিকে ৯২ ব্যবসায়ী দারুচিনি আমদানি করেছেন ৯২ কোটি ১৫ লাখ টাকার ১১ হাজার ৩২৩ টন। এর মধ্যে মাত্র ১০ ব্যবসায়ী এনেছেন ৭০ শতাংশ দারুচিনি। তাদের মধ্যে ঢাকার এম রহমান সর্বাধিক ৭৯৫ টন দারুচিনি আমদানি করেছে।

একই বছরে দেশে ১৯ কোটি ৭২ লাখ টাকার ৭৮৭ টন লবঙ্গ আমদানি করেছেন ৩৯ ব্যবসায়ী। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ লবঙ্গ এনেছেন মাত্র সাতজন। এর মধ্যে ঢাকার এম রহমান ৭৩ টন এবং চট্টগ্রামের মিতা স্টোর ৫৭ টন আমদানি করেছে। আরেক মসলাজাতীয় পণ্য জিরা দশ ব্যবসায়ী মিলে আমদানি করেছেন প্রায় দশ হাজার টন। আর সর্বোচ্চ এক হাজার ৯৬৭ টন জিরা আমদানি করেছে চট্টগ্রামের এবি দাশ অ্যান্ড ট্রেডিং কোম্পানি।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা বেড়েছে। এলাচের দাম কেজিতে ১৬০ টাকা বেড়ে মানভেদে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২৫০ থেকে এক হাজার ৩৮০ টাকায়। দারুচিনি ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২১০ টাকায়। চিকন জিরা ৩৫০ থেকে ৩৬৫ টাকা ও মিষ্টি জিরা বিক্রি করা হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৭ টাকায়। অন্যদিকে গোলমরিচ বিক্রি করা হচ্ছে ৪২৫ থেকে ৫৩০ টাকার মধ্যে। এছাড়া লবঙ্গ মানভেদে বিক্রি করা হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮৫০ থেকে ৯২৫ টাকায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আদা ও রসুনের দাম কেজিতে ১৮ থেকে ২০ টাকা।

অভিযোগ রয়েছে, সরবরাহ কমিয়ে বিভিন্ন ধরনের মসলার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। এরপর নানা অজুহাতে বাড়ানো হচ্ছে দাম। দাম বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করে খাতুনগঞ্জের একাধিক বিক্রেতা বলেন, ‘দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পণ্য সরবরাহ কার্যক্রমে বিঘœ ঘটেছে। এছাড়া এ বছরের বাজেটে বাড়তি সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তার মধ্যে বন্দরের সাম্প্রতিক সময়ের সমস্যার কারণে আমদানিকারকদের জরিমানা দিতে হচ্ছে। জরিমানার অঙ্কটাও পণ্যের আমদানি খরচের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে। এ কারণে মসলার দাম বাড়ছে।’

বাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে ১১০ টাকার আদা ও বড় রসুন খুচরা ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আগে ২০ থেকে ২৫ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হলেও পাইকারিতে এখন দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ও বিদেশি পেঁয়াজ ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রামের একাধিক ব্যবসায়ী নেতা বলেন, পর্যাপ্ত মজুদ ও আমদানি থাকার পরও দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কাটলেও সরকার আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের যথাযথ নজরদারি করেনি। অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীদের দেখানো পথ অনুসরণ করে খুচরা ব্যবসায়ীরাও বেপরোয়াভাবে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। এতে সাধারণ জনগণের ভোগান্তি বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের মাঠপর্যায়ে নজরদারির দুর্বলতার কারণে কোনো কোনো পণ্যের ক্ষেত্রে দাম অস্বাভাবিকভাবে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার পুরো টাকা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিয়েছে। এর জন্য সংকট ও পণ্যের কৃত্রিমভাবে ঊর্ধ্বমুখিতা নিরসনে বর্তমান মজুদগুলোর সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা, আমদানিকারক ও খুচরা পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের যথাযথ মনিটরিংয়ের আওতায় আনা, সংকটকালীন টিসিবিকে দ্রুত কার্যকর করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজার তদারকিতে বাজার মনিটরিং জোরদার করার প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: